ফাহিম হত্যার সন্দেহভাজন একজন গ্রেপ্তার

0
382

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বাংলাদেশি-আমেরিকান মিলিয়নিয়ার ফাহিম সালেহ হত্যায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এনওয়াইপিডি সূত্র জানিয়েছে, আটক ওই ব্যক্তিকে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনের জের ধরেই ফাহিম সালেহকে হত্যা করা হয়েছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাহিমের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই একজনকে শনাক্ত করার কথা জানা গিয়েছিল পরদিনই।

এর আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তাদের ধারণা ফাহিম সালেহের হত্যাকারী কালো পোশাক এবং কালো মাস্ক পরেছিল। নিউ ইয়র্কভিত্তিক গণমাধ্যম পিক্স এলিভেনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হত্যাকারী ফাহিম সালেহকে অনুসরণ করে তার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেছিল।

পুলিশের সূত্র ধরে নিউইয়র্কের ‘আই উইটনেস নিউজ চ্যানেল সেভেন’ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি ফাহিমের সঙ্গে কাজ করতেন। তাঁদের মধ্যে ব্যবসায়িক কোনো লেনদেন ভালো যায়নি বলেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন বলে এর বেশি কিছু জানা যায়নি।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, খুনি খুবই পেশাদার। এ জন্য পাগলের ভান করছেন। তাঁকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক ওই ব্যক্তির কাছ থেকে পুরো ঘটনার তথ্য বের করে আনার চেষ্টা করছে নিউইয়র্ক পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, ফাহিম সালেহকে খুন করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। খুনি পেশাদার হলেও কাজটা ঠিকমতো শেষ করতে পারেননি। ফাহিমের সঙ্গে লিফটে ওঠা ব্যক্তিকে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টেই ঢুকতে দেখা গেছে। অ্যাপার্টমেন্টের দরজা দিয়ে লিফটে করে নেমে আসার কোনো ভিডিও চিত্র পাওয়া যায়নি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফাহিমের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ জন্য ‘টেসার গান’ নামের চেতনালোপকারী বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে শুরুতেই ফাহিমকে কাবু করে ফেলেন ঘাতক। তারপর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অটোসপি রিপোর্টে দেখা গেছে। পরে ইলেকট্রিক করাত দিয়ে ফাহিমের দেহ টুকরা টুকরা করা হয়েছে। ব্লিচ দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশ নির্মাণকাজে ব্যবহার করা ভারী প্লাস্টিকের ব্যাগে ঢোকানোর সময় লবি থেকে বা বাইরে থেকে কেউ ফাহিমের খোঁজ করতে আসেন। হত্যাকারী ফাহিমের মরদেহ টুকরা টুকরা করে ব্যাগে ভর্তি করে। এই ফাঁকে ধুয়েমুছে রক্ত পরিষ্কার করেন। ঘটনাস্থলে তেমন রক্ত পাওয়া যায়নি। কেউ আসছে বা দরজায় বেল দিচ্ছে, তাই ঘটনার পর হত্যাকারী সাত তলা অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে যান। এ জন্য তাঁকে চাবি ব্যবহার করতে হয়েছে। ফলে ঘাতকের এ ধরনের আপৎকালীন এক্সিট পরিকল্পনা আগে থেকেই নেওয়া ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।