মৃত্যুর মধ্যদিয়ে জেরুজালেমে দূতাবাস উদ্বোধন করলো যুক্তরাষ্ট্র

0
75

বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনির মৃত্যুর মধ্যদিয়ে জেরুজালেমে দূতাবাস উদ্বোধন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এদিন ইসরাইলি স্নাইপারদের গুলিতে নিহত হয়েছে অন্তত ৫৫ জন ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী।

এ হতাহতের ঘটনা একদিনে সর্বোচ্চ ফিলিস্তিনির প্রাণহানির অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ ঘটনায় ৩ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিন।

দূতাবাস উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই উত্তাল ছিল গাজা সীমান্ত। তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ছ’সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে। সোমবার উদ্বোধনের দিনে তা ভয়াবহ রুপ নেয়।

১৪ মে, দিনটি ইজরায়েলের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকিও। এদিন ফিলিস্তিনীদের চরম বিক্ষোভের মাঝেই নির্ধারিত সময়ে উদ্বোধন হয়েছে মার্কিন দূতাবাসের।

জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গাজা সীমান্তে সকাল থেকেই জড়ো হয় হাজার হাজার হাজার ফিলিস্তিনী। সীমান্তের দিকে বিক্ষোভকারীরা অগ্রসর হয়ে পাথর ও আগুন বোমা নিক্ষেপ করে, জবাবে ইজরায়েলি সেনা প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ও পরে গুলি ছোঁড়ে।

এতে অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনী বিক্ষোভকারী নিহত হয়, আহত হয় ২হাজার ৭শরও এর বেশি মানুষ।
বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ম্যাসাকার আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। হতাহতদের স্মরণে মঙ্গলবার থেকে ৩দিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, ফ্রান্স, তুরস্ক, দক্ষিন আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ।

শুরু থেকে দূতাবাস স্থানান্তরের মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে ফিলিস্তিনীরা। তাঁদের স্বপ্ন, জেরুসালেমের পূর্ব অংশ একদিন পৃথক ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রের রাজধানী হবে। মঙ্গলবার এই ক্ষোভ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ১৫ মে ফিলিস্তিনি ‘নাকবা’ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে তাই সংঘাত ভয়ঙ্কর আকার নিতে পারে বল আশঙ্কা করা হচ্ছে।