ফেইসবুকের বিরুদ্ধে গার্ডিয়ান-কে হয়রানির অভিযোগ

0
64

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান-কে ‘হয়রানি’ করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুক, এমন অভিযোগ করেছেন যুক্তরাজ্যের এমপিরা। এক ডেটা লঙ্ঘনের তথ্য প্রতিষ্ঠানটিকে জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যমটি, এরই জের ধরে এই হয়রানি করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি নিয়ে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের জের ধরে ফেইসবুক কেন সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছিল, ফেইসবুকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মাইক স্ক্রোফার-কে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে বলে বিবিসি’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অনুমতি ছাড়াই ডেটা ব্যবহার করার বিষয়টি কেন সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদেরকে জানানো হলো না সেই প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

জবাবে স্ক্রোফার বলেন, “সে সময় মানুষকে আমাদের না জানানোর বিষয়টি ভুল ছিল।”

হয়রানির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি দুঃখিত যে সাংবাদিকরা মনে করছেন আমরা তাদেরকে সত্য প্রকাশে প্রতিহত করছি।”

এ পর্বে একাধিক প্রশ্নে স্ক্রোফারের জবাব ছিল- “আমি জানি না।”

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আলেকজান্ডার কোগান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করা ডেটা বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা’র হয়ে একটি অ্যাপ বানিয়েছিলেন। ওই অ্যাপের মাধ্যমেই সংগ্রহ করা হয় ব্যবহারকারীদের ডেটা। পরবর্তীতে এই ডেটা ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়াই ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় কাজে লাগানোর খবর বের হয়। কোগান-এর সঙ্গে ফেইসবুকের বর্তমান এক কর্মী ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে যাওয়ার আগে ফেইসবুক এই ডেটা বেহাতে ও অপব্যবহারের ঘটনা নিয়ে জানতেন না বলেও স্বীকার করেন স্ক্রোফার।

অ্যাপ নির্মাতা কোগান যে শর্তাবলী দিয়েছিলেন তা ফেইসবুকের কেউই তখন পড়েননি, এমন তথ্যও প্রকাশ করেন স্ক্রোফার। তার এমন কথায় হতাশ কণ্ঠে এমপিরা জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা, আপনি কেন জানেন না?”

রাজনৈতিক প্রচারণার বিস্তৃত পরিসর নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন স্ক্রোফার। যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অফ কালচার, মিডিয়া অ্যান্ড স্পোর্ট সিলেক্ট কমিটি’র চেয়ারম্যান ডেমিয়ান কলিন্স ফেইসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন- প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লাটফর্মে এমন টুল রেখেছে যা “গ্রাহকের চেয়ে বিজ্ঞাপন দাতাদের জন্য বেশি কাজ করে।” ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রচারণার ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন স্ক্রোফার। সেইসঙ্গে বর্তমানে এর জন্য আর ভালো উপায় ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

তখন কলিন্স বলেন, “আপনি একটি নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনদাতার দেওয়া একটি বিজ্ঞাপন ‘মিউট’ করে দিতে পারেন, আর এখানে আপনার মূল আগ্রহ আর প্রাধান্যর বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের সুযোগ আছে যা আপনি বদলাতে বা সরাতে পারেন।”

“এগুলো ব্যবহারকারীর জন্য অনেক বেশি কাজ দিয়ে দেয়।”

শুরু থেকেই স্ক্রোফারকে কড়া প্রশ্নের মুখে ফেলেন কলিন্স। নিজের প্রথম প্রশ্নেই তিনি বলেন, “সামনে আপনি কোন গাড়ি কিনবেন, আপনার বাসা কত বর্গফুট?”

“আমি জানি না”, জবাব স্ক্রোফার-এর।

“কিন্তু আমাদের সম্পর্কে এই বিষয়গুলো ফেইসবুক জানে, তাই না?”

এক্ষেত্রে ফেইসবুকের কাছে তার জীবন সম্পর্কিত সে ডেটা রয়েছে সেগুলোর মাত্রার সঙ্গে প্রশ্নের বলা ডেটার উদাহরণের ‘মিল নেই’ বলে মত দেন স্ক্রোফার। তিনি বলেন, “আমি কফি পছন্দ করি আর কিছু নির্দিষ্ট বিষয় আছে যেমন আমি প্রযুক্তি, ভ্রমণ আর বিড়াল পছন্দ করি, এ বিষয়গুলো এটি (ফেইসবুক) জানে।”

মার্কিন প্রেসিডেট নির্বাচনের প্রচারণায় রুশভিত্তিক ট্রল প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সি ভুয়া সংবাদ ছড়িয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রুশ প্রতিষ্ঠানটি ফেইসবুকের টুল ব্যবহার করেছে কিনা তাও জিজ্ঞাসা করেন কলিন্স।

এ ক্ষেত্রে স্ক্রোফারের জবাব ছিল, “আমি নিশ্চিতভাবে জানি না।”

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস আর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নানা গোষ্ঠী ও সমালোচকদের মুখে পড়ে ফেইসবুক। এর জের ধরে ফেইসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গ-কে প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে তলব করে মার্কিন কংগ্রেস আর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। কংগ্রেসে জাকারবার্গ সশরীরে উপস্থিত হলেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনি হাজির হবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন। তার পক্ষ থেকেই ব্রিটিশ এমপিদের মুখোমুখি হন স্ক্রোফার।