‘ফ্ল্যাট আর্থ’ এর লোকেরা বিশ্বাস করে পৃথিবী থালার মতো

0
85

পৃথিবী গোল না থালার মতো চ্যাপ্টা সেই শেষ হয়ে যাওয়া সেই বিতর্কটি আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলছে কিছু মানুষ। ‘ফ্ল্যাট আর্থ’  হলো এমনই এক সংগঠন যারা বিশ্বাস করে না পৃথিবী ঘোলাকার। পৃথিবী গোলাকার এ কিন্তু পৃথিবীতে এখনো কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা বিশ্বাস করে না পৃথিবী গোল। তাঁদের ধারণা, পৃথিবী সম্পর্কে এমন ভুল ধারণা দিয়ে তাঁদের ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে!

তাদের দাবী পৃথিবী যে গোল, এর সপক্ষে কোনো ছবি তুলতে পারেনি নাসা। বরং তাঁরা গবেষণা করে দেখেছেন, এসবই ভুল তথ্য। বরং পৃথিবী হলো চাকতির মতো। পৃথিবীর সব মহাদেশে চাকতির কেন্দ্র থেকে অন্যদিকে ছড়িয়ে আছে।

৯ ও ১০ নভেম্বর নর্থ ক্যারোলাইনার র‍্যালেইয়ে হয়ে গেল প্রথম ‘ফ্ল্যাট আর্থ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স’। অর্থাৎ, যাঁরা বিশ্বাস করেন পৃথিবী হলো চাকতির মতো। নিজেদের এই মত সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে জানাতেই দুদিনব্যাপী এই সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন তাঁরা।

এই ‘মহাজ্ঞানী’দের নেতা হলেন মার্ক সার্জেন্ট। ইউটিউবে এই ভদ্রলোকের প্রায় ৫০ হাজার অনুসারী আছেন। তাঁরা সবাই মিলে দাবি তুলেছেন, এখনো পৃথিবী যে গোল, এর সপক্ষে কোনো ছবি তুলতে পারেনি নাসা। বরং তাঁরা গবেষণা করে দেখেছেন, এসবই ভুল তথ্য। বরং পৃথিবী হলো চাকতির মতো। পৃথিবীর সব মহাদেশে চাকতির কেন্দ্র থেকে অন্যদিকে ছড়িয়ে আছে।

এমন চাকতি-তত্ত্বের সমস্যা একটিই। যেকোনো থালারই কিনারা থাকে, সে কিনারা উপচে পড়ে যাওয়াও সম্ভব। সে ক্ষেত্রে পৃথিবীর প্রান্তে গিয়ে কেউ পড়ে যাচ্ছে না কেন? ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ চলচ্চিত্রের ‘অ্যাট ওয়ার্ল্ডস অ্যান্ড’-এ যেমন দেখা গিয়েছিল আরকি!

উত্তরও দেওয়া আছে। এই পৃথিবী নামক চাকতির পরিধিজুড়েই নাকি অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ। এই বিশাল বরফের চাঁই নাকি আমাদের গড়িয়ে পড়া থেকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে। এবং পৃথিবীর পুরুত্ব নাকি মোটেও হাজার হাজার কিলোমিটার নয়। সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার খুলতে পারলেই নাকি চাকতির উল্টো পিঠে যেতে পারবে মানুষ!

সবচেয়ে মজার বিষয়, নিজেদের এই যে ‘জ্ঞান’, সেটা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার জন্য সবাই এ সম্মেলনে হাজির হয়েছেন অর্থ খরচ করে। ২৪৯ ডলার, অর্থাৎ ২০ হাজার টাকায় সম্মেলনের টিকিট কিনে একে অপরকে নিশ্চিত করেছেন, তাঁরা একতাবদ্ধ! তারিফ করতেই হচ্ছে! সূত্র: বিবিসি।