বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতির কারণেই বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক হয়েছে বাংলাদেশের

0
171

মুবাল্লিগ করিম : একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন নির্ভর করে দেশটির নেতৃত্বের রাজনৈতিক দর্শন ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ওই দেশের সম্পর্কের সমীকরণের ওপর। পররাষ্ট্রনীতির সফলতার জন্য শুধু শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করলেই চলে না, থাকতে হয় শক্তিশালী নেতৃত্ব। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এমনি একজন গুণনীয়ক।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি রাতে মুক্ত হয়ে বিশেষ বিমানে পরের দিন ভোরে লন্ডন পৌঁছেন। ৮ জানুয়ারীই তিনি বৈঠক করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে। ফেরার পথে দিল্লিতে বঙ্গবন্ধুকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী।

বঙ্গবন্ধু ঐ বছরই ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতা সফরে যান। সফরকালে মার্চের মধ্যে সব ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। ১৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বাংলাদেশ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ২৫ বছর মেয়াদি বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও শান্তি বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ আইএমএফ, আইএলও, আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন, ইউনেসকো , কলম্বো প্ল্যান ও গ্যাটের সদস্য হয় ওই বছরই। ৮ আগস্ট বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে আবেদন পাঠায়।

১৯৭৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিব ড. কুর্ট ওয়ার্ল্ডহেইম গণভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যুগোস্লাভিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসেন ২৫ মার্চ। বঙ্গবন্ধু ২৬-৩১ জুলাই প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটোর আমন্ত্রণে যুগোস্লাভিয়া সফর করেন। ৫-৯ সেপ্টেম্বর আলজিয়ার্সে চতুর্থ ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয়র পাশাপাশি বাদশাহ ফয়সাল, প্রেসিডেন্ট টিটো, প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত, প্রেসিডেন্ট ইদি আমিন, প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি, প্রধানমন্ত্রী তাকেদ্দিন স্লথের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বঙ্গবন্ধু।

ওই বছর বাংলাদেশ এডিবি, আইসিএও , ইকাফ এবং ফাও -এর সদস্য পদ লাভ করে। মে মাসে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদের এশিয়া কনফারেন্সে বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তিপদকে ভূষিত করা হয়।

১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য পদ লাভ করে। বঙ্গবন্ধু সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন। ১ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অক্টোবরেই বঙ্গবন্ধু ইরাক সফরে যান। এবছরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার ঢাকা সফরে আসেন। আরো আসেন পূর্ব জার্মানির প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার রাজা, ভুটানের রাজা এবং এফএও-এর মহাপরিচালক।

১৯৭৫ সালে ঢাকা সফর করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, জাপানের যুবরাজ আকিহিতো,এডিবির প্রেসিডেন্ট, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ দাউদ ও সিডার প্রেসিডেন্ট।

বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরের জুলাই- মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রায় ৫০টি রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের সফরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক সফর হয়েছে। ওই স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ৭০টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর সবই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতিরই ফসল।