প্যাট্রিক ডি’কস্তা:

কালো মেঘ দেখেই মানুষ এখন আতকে ওঠে। ভাবে, কখন হবে বজ্রপাত। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বেড়েই চলছে বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা।

এখন বজ্রপাত আতঙ্কে আকাশে মেঘ দেখলে কেউ বের হতে চাচ্ছেন না বাসা থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল টাওয়ারগুলো তালগাছের মতো কাজ করলেও মহাশক্তির এ বিদ্যুৎ তরঙ্গকে ভ‚মিপৃষ্ঠে নামতে সহায়তা করছে। বজ্রপাত নিয়ে এবারের এডিটরস ভিউ।

প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর মধ্যে বজ্রপাত যেমন একটি; তেমনি মানুষের পরিচিত সবচেয়ে ভয়ঙ্ককর প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর মধ্যেও বজ্রপাত একটি।

সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় সমান মাত্রার স্ফুলিঙ্গ আর ভয়াবহ গর্জন বহুকাল ধরেই মানুষের পিলে চমকাচ্ছে। শুধু পিলে চমকানোই নয়, বজ্রপাতে জীবন হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সাম্প্রতিক এই বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে, সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যুর মিছিল।

কেন এই বজ্রপাত? বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়, আকাশে সঞ্চিত কালো মেঘ বৈদ্যুতিক চার্জের আধারের মত আচরণ করে, যার উপরের অংশ পজিটিভ এবং নিচের অংশ নেগেটিভ চার্জ থাকে।

মেঘের দুই স্তরে চার্জ তারতম্যের কারণে সেখানে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়। বাতাস আয়োনিত হয়ে মেঘ এবং ভ‚পৃষ্ঠের মধ্যে বিদ্যুৎ চলাচলের পথ বা শর্ট সার্কিট তৈরি করে দেয় এবং বজ্রপাত ঘটায়। পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে।

পৃথিবীর বজ্রপাতপ্রবণ এলাকাতেও প্রাণহানি বাংলাদেশের তুলনায় অতি নগণ্য। আমেরিকায় প্রতি বছর প্রায় ২৫ মিলিয়ন বজ্রপাত হলেও গড়ে মাত্র ৫০ জন নিহত ও ১০০ জনের মতো মানুষ আহত হয়।

জাপানে প্রতি বছর ১০ লাখের বেশি বজ্রপাত হলেও গড়ে ৩ জনের বেশি মানুষ মারা যায় না। অথচ, ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৩০ জন।

বজ্রপাতে হতাহতের পরিসংখ্যানঃ

আর চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা গেছেন ১৭৬ জন।

২০১১ সালের পর থেকে বজ্রপাতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে ৯৭৮টি বজ্রপাত হয়েছে, যা ২০১২ সালে বেড়ে হয়েছে ১২১০টি। একই ভাবে ২০১৩ সালে ১৪১৫টি, ২০১৪ সালে ৯৫১টি এবং ২০১৫ সালে ১২১৮টি বজ্রপাত রেকর্ড হয় প্রতি বর্গকিলোমিটারে।

বিশ্লেষক: প্যাট্রিক ডি’কস্তা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোবাইল ফোনের টাওয়ার এবং খোলা স্থানে মানুষের মোবাইল ফোনে কথা বলাকে অনেকাংশে দায়ী।

২০১৬ সালের ১৭ মে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। এর আগ পর্যন্ত বজ্রপাতের বিষয়টি উপেক্ষিতই ছিল এবং সঙ্গতকারণেই বজ্রপাতে মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যানও নেই। তবে সময় এসেছে, সার্বিক গবেষণায় এই দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজে বের করার।