জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীরা ধর্মান্ধ; দেশে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী

0
50

ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীরা ধর্মান্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই বলে হুশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ও অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরও এগিয়ে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশের সার্বিক উন্নয়নে গবেষক ও বিজ্ঞানীদের আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, গবেষণা ছাড়া উদ্ভাবন সম্ভব নয়, তাই বর্তমান সরকার গবেষণার ওপর গুরুত্ব প্রদান করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সাথে সাথে এয়ার ফোর্সের হেলিকপ্টার পাঠিয়ে তাকে (অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল) ঢাকা সিএমএইচ এ নিয়ে আসেন উন্নত চিকিৎসার জন্য। জাফর ইকবালের অবস্থা এখন অনেকটাই স্টেবল, ভালো।

সরকার প্রধান বলেন, যারা এই ঘটনাগুলি ঘটায় তারা মনে করে একটা মানুষ খুন করলেই বুঝি তারা বেহেশতে চলে যাবে। তারা কোনদিন বেহেশতে যাবে না, তারা দোজখের আগুনে পুড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করলে কেউ বেহেশতে যেতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাহলে তারা এই অন্ধত্বে ভুগছে কেন? যদিও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই বাংলাদেশে কোনরকম সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ আমরা চলতে দেব না। মাদকের বিরুদ্ধেও আমরা অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক, মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে অন্যান্য ধর্মের প্রত্যেককে যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই সকলের প্রতি আমি জঙ্গিবাদ বিরোধী আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এমনকি তিনি যেসব পাবলিক মিটিং করেন সেখানেও তিনি আহবান জানান, মাদক,সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ থেকে সকলে মিলে ছেলে-মেয়েকে মুক্ত রাখতে হবে এবং এজন্য যা যা করণীয় সবাইকে তাই করতে হবে। এই সভার মাধ্যমেও এজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সিলেটের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গতকাল এক যুবকের অতর্কিত হামলায় ছুরিকাহত হন বরেণ্য লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে পরে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এ স্থানান্তর করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা.আফম রুহুল হক। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ১১৬ জনকে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, ২৩৫৮ জনকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ (এনএসটি) এবং ১৪১টি প্রকল্পকে গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী টোকেন হিসেবে ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ফেলোশিপ ও অনুদানের চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং ফেলোশিপ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।