বাংলাদেশকে ২১৫ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতল লঙ্কাকানরা

0
77

তৃতীয় দিনের খেলাও সম্পূর্ণ হল না ঢাকা টেস্টে। শ্রীলঙ্কার কাছে ২১৫ রানের ব্যবধানে ধরাশায়ী বাংলাদেশ। ৩৩৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১২৩ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। ১-০ তে সিরিজ জিতে নিল লংকানরা। সিরিজ ও ম্যাচ সেরা হয়েছেন রওশন সিলভা।

লক্ষ্য ছিল দুরূহ। পরিস্থিতি ছিল কঠিন। তবে প্রতিকূল স্রোতে সাঁতারের চেষ্টা তো করা যেত! বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে পড়ল না সেই ইচ্ছের বিন্দুমাত্র প্রতিফলন। একের পর এক বাজে শট, আরও একবার হতশ্রী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী, ম্যাচে দ্বিতীয়বার ব্যাটিং ধস। আড়াই দিনেই বাংলাদেশ ডুবল বিব্রতকর হারে।

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশকে ২১৫ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছে ১-০ ব্যবধানে।

শনিবার তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় ইনংসে ২২৬ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ৩৩৯ রানের লক্ষ্যে ছুটে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ১২৩ রানে। খেলতে পেরেছে মাত্র ২৯.৩ ওভার। শের-ই-বাংলায় এত কম ওভারে অলআউট হয়নি আগে কোনো দলই।

৮ উইকেটে ২০০ রান নিয়ে দিন শুরু করে সকালে আরও ৫১ মিনিট ব্যাট করে ২৬ রান যোগ করে শ্রীলঙ্কা। আগেই কঠিন হওয়া লক্ষ্যটা তাতে হয়ে ওঠে কঠিনতর।

তবে বাংলাদেশ যে ব্যাটিং উপহার দিল, তাতে লক্ষ্য কম-বেশির হিসাব নিকাশের সুযোগই আসেনি। ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবারই ছিল যেন ট্রেন ধরার তাড়া!

সবচেয়ে বড় ভরসা তামিম ইকবালকে শুরুতে হারিয়ে পতনের শুরু। ইমরুল কায়েস বারবার বেরিয়ে এসেছেন দৃষ্টিকটুভাবে। তাতে একটি করে চার ও ছক্কা মারতে পারলেও লম্বা করতে পারেননি ইনিংস।

মুমিনুল হক ৩৩ রান করেছেন ঝুঁকির পথে হেঁটেই। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন বাইরের বল ডিফেন্স করতে গিয়ে।

মুশফিকুর রহিম উইকেটে যাওয়ার পরপরই রিভার্স সুইপ করার চেষ্টা করেছেন দুই দফায়। লাঞ্চের পর দ্বিতীয় বলেই বেরিয়ে এসে চার মেরেছেন। তাকেও মেনে নিতে হয়েছে সতীর্থদের পরিণতি।

একমাত্র লিটন দাসকেই একটু দায়মুক্তি দেওয়া যায়। আউট হয়েছেন আকিলা দনঞ্জয়ার বাড়তি লাফানো বলে। উইকেটে কিছুক্ষণের নড়বড়ে উপস্থিতি শেষে মাহমুদউল্লাহ আউট হয়েছেন বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে।

অধিনায়কের উইকেট দিয়ে শুরু আরও একটি ধসের। প্রথম ইনিংসে ৩ রানের মধ্যে বাংলাদেশ হারিয়েছিল শেষ ৫ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রানে নেই শেষ ৬ উইকেট।

অভিষিক্ত আকিলা দনঞ্জয়া নিয়েছেন ২৪ রানে ৫ উইকেট। অভিষেকে এটি শ্রীলঙ্কার হয়ে ইনিংসে দ্বিতীয় সেরা বোলিং। আরেক জায়গায় তিনিই হয়ে গেছেন সেরা। ম্যাচে তার ৪৪ রানে ৮ উইকেট অভিষেক টেস্টে শ্রীলঙ্কার হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড।

প্রথম ইনিংসে বিস্ময়করভাবে উইকেটশূন্য থাকা রঙ্গনা হেরাথ এবার নিয়েছেন চার উইকেট। ওয়াসিম আকরামকে (৪১৪) ছাড়িয়ে এখন তিনি টেস্ট ইতিহাসের সফলততম বাঁহাতি বোলার।

দলের জয় আর ব্যক্তিগত অর্জনে উদ্ভাসিত লঙ্কানদের পাশে ভীষণ বিবর্ণ বাংলাদেশ। এই টেস্ট ড্র করতে পারলেও প্রথমবারের মতো ধরা দিত র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বর জায়গা। ম্যাচ হেরে উল্টো হারাতে হচ্ছে রেটিং পয়েন্ট। পাশাপাশি পেতে হলো ২০১৫ সালের পাকিস্তান সিরিজের পর দেশের মাটিতে প্রথম হারের তেতো স্বাদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ২২২

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১১০

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ২২৬

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৩৯) ২৯.৩ ওভারে ১২৩ (তামিম ২, ইমরুল ১৭, মুমিনুল ৩৩, মুশফিক ২৫, লিটন ১২, মাহমুদউল্লাহ ৬, সাব্বির ১, মিরাজ ৭, রাজ্জাক ২, তাইজুল ৬, মুস্তাফিজ ৫*; লাকমল ০/১১, পেরেরা ১/৩২, হেরাথ ৪/৪৯, দনঞ্জয়া ৫/২৪)।

ফল: শ্রীলঙ্কা ২১৫ রানে জয়ী

সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ শ্রীলঙ্কা ১-০ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: রোশেন সিলভা

ম্যান অব দা সিরিজ: রোশেন সিলভা