বাংলাদেশে আইএসের নতুন আমির ঘোষণা নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকের টুইট

0
797

বাংলাদেশে আবারও কথিত ইসলামিক স্টেটের একজন নতুন প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতের জি নিউজের একজন সাংবাদিক এক টুইট বার্তায় এ খবর দিয়েছেন।

পুজা মেহতা জি নিউজের সন্ত্রাসবাদ এবং অপরাধ বিষয়ের ওপর কাজ করছেন। তিনি টুইটে বলেন, আইএস বা আইসিস-পন্থী একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে বাংলাদেশে সংগঠনের নতুন আমীর নিয়োগের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের নতুন আমীরের নাম ‘আবুল আব্বাস আল বাঙ্গালি।’

কিন্তু আন্তর্জাতিক জিহাদি সংগঠনগুলোর তৎপরতার খোঁজ-খবর রাখেন এমন বিশেষজ্ঞরা এই দাবির ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করছেন।

সুইডেনে অবস্থানরত বাংলাদেশি লেখক এবং সাংবাদিক তাসনীম খলিল বলছেন, এ নিয়ে গত কয়েক বছরে এমন তিন জনের নাম শোনা গেল, যাদেরকে বাংলাদেশে আইএসের নতুন প্রধান বলে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু এসব দাবির কোনটিরই সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে আইএস নিজেই বিবৃতি দিয়ে এই দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছে।

তাসনীম খলিল বলেন, আইএসের এখনো যে গুটিকয়েক চ্যানেল আছে, সেগুলোতে কিন্তু আমরা এখনো পর্যন্ত এ ধরণের কোন খবর দেখিনি যে তারা নতুন কোন আমীর বাংলাদেশে নিয়োগ করেছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে আইএসের সাংগঠনিক অবস্থান এখন নেই বললেই চলে। কাজেই যে সংগঠনই নেই, সেই সংগঠনের আমীর নিযুক্ত করার বিষয়টি একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।

তিনি বলেন, পুজা মেহতার এই টুইটে বেশ কিছু ভুল আছে। এতে নতুন আইএস আমিরের নাম আবুল আব্বাস আল বাঙ্গালি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আইএস সাধারণত তাদের নেতা বা যোদ্ধাদের যে নাম প্রকাশ্যে প্রচার করে, সেটি আসলে ছদ্মনাম বা তাদের ভাষায় কুনিয়া। আইএসের কুনিয়া সাধারণত এরকম হয় না।

এই কুনিয়ার দুটি অংশ থাকে। একটি অংশে মূলত পারিবারিক সম্পর্কের ইঙ্গিত থাকে, আরেকটিতে থাকে তিনি কোন দেশ বা কোন অঞ্চলের মানুষ সেটির ইঙ্গিত।

তাসনিম খলিল বলেন, আবুল আব্বাস আল বাঙালি যদি আইএসের দেয়া নাম হতো তাহলে এটি আসলে হতো আবু আব্বাস আল বাঙ্গালি। আবু আব্বাস মানে আব্বাসের পিতা আর আল-বাঙ্গালি মানে বাংলাদেশি বা বাংলাদেশের মানুষ।

বাংলাদেশে আইএসের প্রথম ঘোষিত আমির ছিলেন সাইফুল্লাহ ওজাকি, যার কুনিয়া বা ছদ্মনাম ছিল আবু ইব্রাহীম আল হানিফ। সাইফুল্লাহ ওজাকির একটি ছোট ছেলে ছিল যার নাম ছিল ইব্রাহীম। তার ভিত্তিতেই এই কুনিয়া।

বাংলাদেশে আইএসের এখনো পর্যন্ত স্বীকৃত আমির একজনই ছিল, তার নাম ছিল আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। তার প্রকৃত নাম ছিল সাজিথ দেবনাথ। ধর্মান্তরিত হয়ে জাপানে অবস্থানকালে তার নতুন নাম হয় সাইফুল্লাহ ওজাকি। তাকেই বাংলাদেশের গুলশানে হোলি আর্টিজানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে মনে করা হয়। ২০১৯ এর মে মাসে খবর আসে যে ইরাকে কুর্দি বাহিনীর হাতে সাইফুল্লাহ ওজাকি ধরা পড়েছেন।

তাসনীম খলিল জানান, ওজাকির পর বাংলাদেশে আরও দুজন আইএসের আমীর হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছিল। এদের একজনের নাম বলা হয়েছিল আবু শফিক আল বাঙ্গালি। অপরজনের নাম আবু মুহাম্মদ আল বাঙ্গালি। কিন্তু পরে এই দুটি দাবিরই কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বাকিয়া মিডিয়া স্ট্রাইক নামে বাংলাদেশে আইএসের যে কমিউনিকেশন চ্যানেল ছিল তারা নিজেরাই এর প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তারা বলেছিল, এগুলো আইএসের শত্রু এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কাজ করা গুপ্তচরদের প্রচারণা।

আইএসের নতুন আমির নিয়োগের এরকম দাবি যদি ভুয়া হয়ে থাকে সেই প্রচারণার উদ্দেশ্য কী হতে পারে? তাসনিম খলিল বলেন, বিভিন্ন দেশে যেসব নিরাপত্তা বাহিনী বা গুপ্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম কাজে যুক্ত তারা নিজেরাই অনেক সময় ছদ্ম প্রচারণা চালিয়ে সম্ভাব্য জঙ্গিদের ফাঁদে আটকানোর চেষ্টা করে।

এ ধরণের তৎপরতাকে বলা হয় হানিপট অপারেশন অর্থাৎ মধুর লোভ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা। বিভিন্ন নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাইবার সেলগুলো এরকম তৎপরতা চালিয়ে থাকে। এটা সেরকম কোন অপারেশনের অংশ হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতা সম্পর্কে যে অনেক মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয় তার একটি সাম্প্রতিক উদাহারণ তুলে ধরেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশে খবর বেরিয়েছিল যে, ঢাকার একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় যুক্ত থাকার দাবি করেছে আইএস। সাইট ইন্টেলিজেন্স থেকে অনেকেই এই খবরটি প্রচার করলো। অথচ ওই বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে যে আইএসের কোন সম্পর্ক ছিল না, সেটা বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজম পুলিশের তদন্তেও বেরিয়ে এসেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।