বাঘায় স্বামী-স্ত্রী লাশ উদ্ধার

0
79

দেশের উত্তরাঞ্চলীয় রাজশাহীতে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের মালিথা পাড়ায় স্ত্রীর লাশ বাড়ির বারান্দায় এবং স্বামীর লাশ বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দুরে একটি লিচু গাছে ডালে পাওয়া গেছে ঝুলন্ত অবস্থায়।

স্ত্রীকে খুন করে স্বামী গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা বাঘা থানার ওসি সেলিম রেজার। নিহতরা হলেন, আব্দুল মান্নান (৪৮) ও তার স্ত্রী কাজলি বেগম রুনি (৩৭)। তাদের দুই ছেলে রয়েছে।

বাঘা থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, সকালে স্বামী-স্ত্রীর লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয় এলাকার লোকজন। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

তাদের মৃত্যু কিভাবে হয়ে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটি জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্ত্রীকে খুন করার পর স্বামী গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে লাশের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ওই এলাকার ইউপি সদস্য সানিউল মালিথা জানান, রাতে বাড়িতে তারা স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও নিহত মান্নানের বৃদ্ধা মা ও তার ছোট ছেলে সাবিদ ছিল। স্ত্রী রুনির লাশ তাদের শোয়ার খরের বারান্দায় পাওয়া গেছে। আর বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দুরে একটি লিচু গাছে ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় মান্নানের লাশ পাওয়া যায়।

এদিকে নিহতদের ছোট ছেলে সাবিদ (১৩) জানান, রাত ৩ টার দিকে দাদি আমার ঘুম ভাঙ্গালে ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় মার লাশ পড়ে থাকতে দেখি। তবে এ সময় বাবাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে গ্রামের লোকজন জানায় লিচু গাছে বাবার লাশ ঝুলছে।

তবে রাতে তার বাবা-মার মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল কি-না সেটি জানাতে পারেন নি সাবিদ। সে জানান, তার মায়ের হার্ড পেশার ছিল। এমন হতে পারে মায়ের মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে বাবা গলায় রশি দিয়েছে।

তবে শীতের দিনে ঘরের বাইরে চকির উপরে মেয়ের লাশ থাকার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না রুনির বৃদ্ধ পিতা নবাব আলী। তিনি জানান, তাঁর জামাই তরিকা পন্থি লোক ছিলেন।

মেয়ের সঙ্গে জামাই এর সম্পক ভাল ছিল। শুক্রবার (১৫-১২-১৭) জামায়ের পিতা ওয়াদ আলীর চল্লিশা ছিল। এ মর্মে বৃহস্পতিবার বাজার করার কথা। জানিনা তাদের মধ্যে এ নিয়ে কোন ঝগড়া হয়েছি কি না !

পাশের বাড়ির ইন্নাল ও আফাজ জানান, রাত ৩ টার সময় মান্নান এর গলা থেকে চিৎকার শুনে বাইরে বের হয়। তখন তার মা ও ছেলে কান্না করছিল।

এ সময় তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে মান্নানের স্ত্রীকে বারান্দায় অগ্যান অবস্থায় চকির উপরে শুয়ে থাকতে দেখি। এরপর ও তারাতে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার রুনিকে মৃত ঘোষণা করেন।