বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলা আজ শুরু

0
65

বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় বাংলা একাডেমি চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবারও ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হচ্ছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, বিকাশ, বাঙালি সাংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক ধারায় অনন্য সংযোজন গ্রন্থমেলা। বিকাল থেকে ভাষা-সংগ্রামের প্রেরণায় উজ্জীবিত এই মেলা মুখর হয়ে উঠবে লেখক-প্রকাশক-পাঠকের পদচারণায়।

বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক বাংলা একাডেমির আয়োজনে মেলায় অংশ নেবে দেশের প্রায় সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বই প্রকাশ, প্রদর্শনী ও বেচা-কেনার এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলবে মাসব্যাপী এ বইমেলা। চিন্তাশীল পাঠক থেকে শুরু করে সাহিত্য প্রেমী, ফিকশন প্রেমী, বা শিশুতোষ গ্রন্থপ্রেমিক সবার প্রাণের খোরাক জোগায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

বিকালে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিদেশি অতিথি লেখক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এগনিস মিডোস (যুক্তরাজ্য), ড. জয়েস অ্যাসউনটেনটেক্স (ক্যামেরুন), ইব্রাহিম এলমাসরি (মিসর), অরনে জনসন (সুইডেন) প্রমুখ।

গ্রন্থমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আলোকচিত্রে বাংলা একাডেমির ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ: বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ গ্রন্থ দুটি তুলে দেওয়া হবে। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী গ্রন্থমেলা পরিদর্শন করবেন।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও ২২-২৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ফ্রান্স, স্পেন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ ৮টি দেশের ১৫ জন কবি-লেখক-বুদ্ধিজীবী অংশগ্রহণ করবেন।

বাংলা একাডেমির আয়োজনে একাডেমির মূলচত্বর ও একাডেমি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় পাঁচ লাখ স্কয়ার ফুট জায়গা নিয়ে বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগের বইমেলাগুলোতে নিয়মিত বরাদ্দ পাওয়া প্রকাশনা সংস্থা ছাড়াও এবার শতাধিক প্রকাশক স্টলের আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ১৫টি নতুন সংস্থাকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মেলা কমিটি।

প্রতিবছরের মতো এ বছরও মেলায় থাকবে বেশকিছু সংস্থা ও প্রকাশনার স্টল। মেলা আয়োজনে ইতোমধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। মেলার সবগুলো স্টল এখন দৃশ্যমান। প্রায় অধিকাংশ স্টলে বইয়ে সাজানো হয়েছে।

মেলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে মোট ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১৯টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৩৬টি ইউনিট এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৮৩টি ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট ১৫ হাজার ৫৩৬ বর্গফুট আয়তনের ২৫টি প্যাভিলিয়ন। এর বাইরে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে ১৩৬টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন তাদের বই বিক্রি/প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। বইমেলায় বাংলা একাডেমিসহ সকল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি করবে।

মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকছে প্রকাশকদের স্টল। তাই সেদিকেই বেশি নজর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সব স্টল যেন সমান গুরুত্ব পায়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে বিশেষভাবে। মেলা কমিটি আগেই জানিয়েছে, আগে মেলা রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও এবার মেলা চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত।

এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে এবং প্রতিবারের মতো ‘শিশুপ্রহর’ ঘোষণা করা হবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। মেলায় এবারও থাকবে বিনামূল্যে ওয়াইফাই ইন্টারনেট সুবিধা। বইমেলায় প্রবেশের জন্য টিএসসি, দোয়েল চত্বর দিয়ে দুটো মূল প্রবেশপথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাহিরের ছয়টি পথ থাকবে।

বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।

বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যা ব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থারসমূহের নিরাপত্তাকর্মীরা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলা এলাকাজুড়ে অনেক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল চারটায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার। এছাড়া মাসব্যাপী প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে প্রতিবারের ন্যায়।