বাজেট উত্থাপনের পরপরই বাস্তবায়ন নিয়ে আসে উদ্বেগ (ভিডিও)

0
119

শারমিন আজাদ:

বাজেট উত্থাপনের পরপরই বাস্তবায়ন নিয়ে আসে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞ ও খোদ বাস্তবায়নকারীদের মনেও শংকা বাস্তবায়ন নিয়ে।

এর মধ্যে রাজস্ব আদায় নিয়ে যেমন চ্যালেঞ্জ রয়েছে তেমনই অনিশ্চয়তা রয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি বাস্তবায়ন নিয়ে। এর মধ্যে বিষফোড়া হয়ে উঠেছে খেলাপী ঋণ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও ম‚ল্যায়ন বিভাগ- আইএমইডি’র এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা থোকসহ এডিপিতে ১৫২১টি প্রকল্প ছিল।

এসব প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৬৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের এডিপিতে ১৪৫৭টি প্রকল্প ছিল, যাতে বরাদ্দ ছিল ৭৭ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৫৫৭টি প্রকল্পে ৯৩ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রকল্প ছিল ১৭১০টি, আর বরাদ্দ ছিল এক লাখ ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপিতে প্রকল্প ছিল ১৭২৩টি। এসব প্রকল্পে এক লাখ ৫৭ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয় বলে জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।

অর্থনৈতিক খাতে টাকার যোগানদাতা ব্যাংক খাত। বাস্তবতা হলো আমাদের দেশে ব্যাংকের হাতে টাকা নেই। কেন? এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি, তার মানে যারা টাকা নিয়েছেন তারা ‘কিস্তি’ পরিশোধ করছেন না। ফলে ব্যাংকে টাকা জমা পড়ছে না। আমানত কমে যাচ্ছে। আবার মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা রাখতেও আগ্রহী হচ্ছেন না। এর একটা কারণ ব্যাংকে সুদের হার কম; আস্থার সংকটও আছে।

পাশাপাশি দেশ থেকে দেদারসে টাকা পাচার হচ্ছে। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গেøাবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি- জিএফআই গত ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০১৫ সালে বাণিজ্যে কারসাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

যেকোনো বাস্তবায়নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা তৎপর হলে হুমকি আসে। বদলি এমনকি চাকরিচ্য‚তির হুমকি দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের যোগ এখন অনেক বেশি। অনেক ক্ষেত্রে

রাজনীতিবিদরাই সামনে একজনকে রেখে পেছন থেকে ব্যবসার কলকাঠি নাড়েন। ফলে আইন মানানো সহজ হয় না।

অনিয়মের কারণে একদিকে যেমন বাজেটে রাজস্ব আদায় টার্গেট পূরণে হিমশিম খায়, অন্যদিকে বিপাকে পড়ে ব্যয়ের হিসাবও।