বাথরুমের ভুল

0
76

ব্যবহার করা টুথব্রাশটা পরিষ্কার করেছেন কখনও? ফ্ল্যাশ করার সময় কি ঢাকনা খোলা রাখেন? কিংবা গোসলের পানি গরম না ঠাণ্ডা বোঝার জন্য কল ছেড়ে রাখছেন? এরকম অভ্যাসগত ভুলের কারণে ছড়াচ্ছে জীবাণু অপচয় হচ্ছে পানি।

গোসলখানায় অভ্যাসের কারণে করা ভুলগুলো নিয়ে জীবনযাপন-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে করা এই প্রতিবেদনটি সাজানো হয়েছে।

টুথব্রাশ পরিষ্কার না করা

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, অধিকাংশ টুথব্রাশে প্রায় ১০ মিলিয়ন জীবাণু থাকে। প্রতিকার- সপ্তাহে এক বা দুবার দশ সেকেন্ডের জন্য টুথব্রাশ মাইক্রোওয়েভে ঢুকিয়ে রাখুন।

ঢাকনা খুলে ফ্ল্যাশ করা

ফ্ল্যাশ করার সময় ব্যাকটেরিয়া প্রায় ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত উপরে উঠে আসে, ফলে সবকিছু নোংরা হয়ে যায়।
প্রতিকার- কমোডের ঢাকনা ফেলে ফ্ল্যাশ করা।

সঠিক তাপমাত্রার জন্য অতিরিক্ত পানি খরচ করা

১০ মিনিটের গোসলের জন্য আপনি হয়ত ৪২ গ্যালনের বেশি পানি অপচয় করেন। একবার পানির আদর্শ তাপমাত্রা পেয়ে গিয়ে থাকলে উজ্জ্বল রংয়ের নেইলপলিশ দিয়ে নব চিহ্নিত করে রাখুন। ফলে সঠিক তাপমাত্রার পানির জন্য বার বার পানি অপচয় করতে হবেনা।

যাদের বাসায় গিজার আছে তাদের জন্য এই পন্থা অবলম্বন করা উচিত।

জোরে ঘষে শরীর মোছা

শরীরের পানি মোছার জন্য জোরে জোরে ঘষা ঠিক নয় এটা শুষ্ক ত্বক ও কোষের ক্ষতি করে। গোসলের পরে হালকা চাপ দিয়ে শরীরের পানি মুছে নিন। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সম্পূর্ণ শুকিয়ে আসার আগেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

পিছলে পড়ার সম্ভাবনা

গোসলখানার বাথটাব বা অন্যান্য জিনিস ভিজে থাকার কারণে পিচ্ছিল হয়ে থাকে। বাথরুমে আঘাত পাওয়া ৮১ শতাংশ ঘটে পিছলে পড়ে যাওয়ার কারণে। তাই বাথটাব থাকলে বা অন্যান্য সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ব্যবহারের পরে তা শুষ্ক রাখার চেষ্টা করুন।
প্রতিকার- বাথরুম সাজাতে পিচ্ছিলরোধী সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।

ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার

সোডিয়াম লরাল/ লরেথ সালফেট শ্যাম্পুর ফেনা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। এটাই চুল শুষ্ক ও রুক্ষ করে ফেলার জন্য দায়ী।

প্রতিকার- ওষুধের দোকান থেকে সালফেট বিহীন শ্যাম্পু কিনে ব্যবহার করুন।

রেইজর ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে অপচয়

ব্যবহারের পর রেইজর ফেলে না দিয়ে বরং ধার বাড়িয়ে আবার ব্যবহার করুন।

করণীয়- একটি পুরানো জিন্সের সাহায্যে রেজারের ধার বাড়াতে পারেন। জিন্সের প্যান্টে উপরের দিকে ১৫ বার ও নিচের দিকে ১৫ বার ঘষে ধার দিয়ে নিন। এতে টাকার অপচয় কম হবে।

মৃত কোষ দিয়ে শরীর ঘষা

২৪ ঘণ্টা পরেই ত্বকে লাখ লাখ মৃত কোষের সৃষ্টি হয়।

করণীয়- গোসল করার লুফা ব্যবহারের আগে শুকিয়ে নিন এবং সপ্তাহে একবার পানি ও ব্লিচের মিশ্রণ দিয়ে পরিষ্কার করুন।

ভুলভাবে হাত ধোওয়া

গবেষণা থেকে জানা যায়, যদি সবাই হাত ধোয়ার অভ্যাস করে তাহলে এক মিলিয়ন মৃতু প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাছাড়া এটা ৪৭ শতাংশ ডায়রিয়া কমাতেও সাহায্য করবে।
করণীয়- ‘দি সিডিসি’ বা ‘সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ হাত ধোয়ার একটা নির্দেশনা দেয়। টয়লেট থেকে আসার পরে ও খাবার ধরার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিয়ে হবে।

নমনীয়তা নষ্ট করা

অতিরিক্ত এক্সফলিয়েট করার জন্য ত্বকের নমনীয়তা নষ্ট হয় ও সংবেদন শক্তি কমে যায়।

করণীয়- সপ্তাহে দুয়েকবার এক্সফলিয়েট করা অথবা আলফা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড দিয়ে গোসল করুন, এটা ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে সাহায্য করে।

ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া

ত্বক একবার শুষ্ক হয়ে গেলে তা আর ময়েশ্চারাইজার শোষণ করতে পারেনা। করণীয়- ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হালকা ভেজা অবস্থায় লোশন ব্যবহার করুন।

অ্যান্টব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার

ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান স্টেটসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের সাবান ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।

করণীয়- সাধারণ সাবান ব্যবহার করুন। একই গবেষণা থেকে জানা গেছে, সাধারণ সাবান অসুস্থতা দূর করতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়ালের মতোই কাজ করে।

অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা

প্রতিদিন শ্যাম্পু করা চুলের জন্য ক্ষতিকর। কারণ এটা মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়। যা চুল সুস্থ রাখার জন্য দরকার।
প্রতিকার- ত্বকবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে সপ্তাহে দুতিনবার শ্যাম্পু করা।

অলসতার জন্য কন্ট্যাক্ট লেন্সের ক্ষতি

প্রায় ৯০ শতাংশ কন্ট্যাক্ট লেন্স নষ্ট হওয়ার কারণ হল ঠিকঠাক যত্নের অভাব। করণীয়- লেন্সের পুরানো সলিউশন ফেলে দিয়ে নতুন সলিউশ ব্যবহার করুন।

বাথরুমের আয়না পরিষ্কার করা

আয়নায় লেগে থাকা শুকিয়ে যাওয়া পানির দাগ হাত বা তোয়ালের সাহায্যে পরিষ্কার করার চেষ্টা। করণীয়- আয়নায় ব্লো ড্রায়ারের সাহায্যে কয়েক সেকেন্ড ভাপ দিন অথবা গরম পানি স্প্রে করুন। এটা পানির দাগ ও ধোয়াশা দাগও দূর করবে।

গোসলের পর্দা

গোসলখানার যদি পর্দা থাকে তাহলে প্রতিবার সাবান মাখার সময় পর্দা গায়ে লাগে। কাঠ বা ধাতবের পিন ব্যবহার করে নিজের সুবিধামত জায়গা নিয়ে পর্দা আটকে রাখুন ।

ডিওডোরান্ট সংবেদনশীলতা

একইভাবে ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হতে পারে। একইভাবে ঘামরোধীও হয়ে উঠতে পারে প্রতিদিনের ব্যবহার করা ডিওডোরান্ট।
করণীয়- প্রতি ছয় মাস পর পর ডিওডোরান্টের ব্র্যান্ড পরিবর্তন করুন।

দাগ

আমরা চাইলেই সবসময় কমোড মন মত পরিষ্কার রাখতে পারিনা। কমোড ব্যবহারের আগে তাতে কিছু টিসু দিয়ে নিন। আর ব্যবহারের পর তা ফ্ল্যাশ করুন। দাগ ছোপ দূর হয়ে যাবে।