বাবা প্রযোজক হলে আগেই নায়ক হতেন তন্ময়

0
68

অরিন্দম শীলের ‘ধনঞ্জয়’ (২০১৭) ছবি দিয়ে বড়পর্দায় হাতেখড়ি। তার আগে এবং পরে, এখনও তন্ময় মজুমদার মূলত থিয়েটার অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত। ‘কলকাতা রমরমা’-র এই অভিনেতা কলকাতায় এসেছেন প্রায় বছর সাতেক আগে। টানা পাঁচ বছর টলিপাড়ায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলার পরে ‘ধনঞ্জয়’-তে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পেয়েছিলেন। তার পরে কিন্তু পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। পরের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁকে প্রায় ১ বছর।

কিন্তু সেই সুযোগটা আসতেই উচ্ছ্বসিত অভিনেতা জানালেন নিজের কিছু কথা, ‘‘ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল যে অভিনেতা হব। তার জন্য বহরমপুর থেকে কলকাতায় আসি। কলকাতায় থিয়েটার জয়েন করি। আমি জুনিয়র আর্টিস্টের কাজও করেছি। অভিনয়ের জন্য আমি সবকিছু করতে পারি। জুনিয়র না বক্স আর্টিস্ট— এই নিয়ে আমি কখনওই কিছু ভাবতাম না।

কিন্তু এটা স্বীকার করতেই হবে যে, জুনিয়র আর্টিস্টদের খুব একটা সম্মান দেওয়া হয় না। খুব কষ্ট করে টিকে ছিলাম। মাঝেমধ্যে ভাবতাম যে ,বাবা প্রযোজক হলে এতদিনে নায়ক হয়ে যেতাম। ‘ধনঞ্জয়’ রিলিজ হওয়ার পরে সবাই অ্যাপ্রিশিয়েট করেছিল। এই সুযোগটা একমাত্র এসভিএফ ও অরিন্দম শীল দিয়েছিলেন’ জানালেন অভিনেতা তন্ময় মজুমদার।

তন্ময় এর পরে এক বছর ধরে অনেক অডিশন দিয়েছেন কিন্তু তেমন কিছু করে উঠতে পারেননি। কিন্তু সব সময়ে আশাবাদী ছিলেন। ধৈর্য্য ধরলে যে তার ফল সব সময় ভাল হয়, তার প্রমাণ পেয়েছেন সম্প্রতি। সুরিন্দর ফিল্মস-এর ছবি ‘বাঘ বন্দি খেলা’-র জন্য যখন ডাক এসেছিল, তখনও জানতেন না যে জীবনের দ্বিতীয় ছবিতেই তাঁর রোল মডেলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

তন্ময় মজুমদার

‘বাঘ বন্দি খেলা’ ছবিটি একটু ভিন্নমাত্রার হতে চলেছে। তিনজন পরিচালকের তিনটি গল্পকে বাঁধা হয়েছে একটি সূত্রে।

তৃতীয় গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তন্ময় অভিনীত চরিত্রটি। এই গল্পটির পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সোহম, জিৎ, সায়ন্তিকা— বাংলা ছবির বহু জনপ্রিয় তারকাদের দেখা যাবে এই ছবিতে।

তিনটি গল্পেরই কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিন উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে। সেই তিনটি চরিত্রে রয়েছেন অয়ন ভট্টাচার্য, রাজদীপ গুপ্ত ও তন্ময় মজুমদার।

‘‘সুরিন্দর ফিল্মস-কে অশেষ ধন্যবাদ যে বুম্বাদার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগ পেয়েছি। বুম্বাদার সঙ্গে কাজ করার তো অন্য একটা এক্সপিরিয়েন্স। প্রথমে জানতাম না যে, দাদার সঙ্গে সিন থাকবে। যখন জানলাম, প্রচণ্ড এক্সাইটেড ছিলাম। যখন শ্যুটে গেলাম, প্রথম দিনেই বুম্বাদার সঙ্গে আমার সিন ছিল… আমি ছোট থেকে যাঁকে দেখে এসেছি, আমার বাবা-মা সবাই যাঁকে রেসপেক্ট দেয়।

সেই মানুষটার সঙ্গে আমি কাজ করছি অন-স্ক্রিন… আমি বলে বোঝাতে পারব না, কতটা এক্সাইটেড ছিলাম, কতটা খুশি হয়েছি আমি। বুম্বাদা ভীষণ ভাল একজন অ্যাক্টর। নিউকামার-দের খুব সাহায্য করেন। তার থেকেও বড় কথা হল উনি খুব ভাল একজন মানুষ।

ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় বড় অভিনেতা-অভিনেত্রী, এমনকী আপকামিং অনেকেরও বুম্বাদাকে দেখে কিছু শেখা উচিত। আর আমার বাড়িতে ছোটবেলা থেকে একটা কথাই বার বার বলা হয়েছে যে, জীবনে যাই হতে চাও না কেন, সে অভিনেতা হোক বা ডাক্তার, ভাল মানুষ হওয়াটা খুব জরুরি। সবার আগে ভাল মানুষ হও। তা হলেই তুমি জীবনে অনেক বড় হতে পারবে।’’