মাহবুব সৈকত : 

প্রতিদিনই বিভিন্ন হাসপাতালে দগ্ধ হওয়া যত রোগী ভর্তি হচ্ছে তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে আহত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। যাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। বাসা-বাড়ি কিংবা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরের বৈদ্যুতিক গোলযোগ কিংবা বসতবাড়ির ওপর দিয়ে বিপজ্জনকভাবে নেয়া বিদ্যুত লাইনের কারনে স্পৃষ্ট হচ্ছে অনেকে।

যে হাতে কান্তা মনির থাকার কথা এখন নতুন বই, সেই হাত এখন গজের ব্যান্ডেজে জড়ানো । সন্তান সুস্থ্য হয়ে কবে কলম ধরবে, আদৌ কি খেলা করবে হাতের দশটি আঙ্গুল, এমন চিন্তায় অভিভাবকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ঘরের উপর দিয়ে যাওয়া উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক তারে ছোট্ট এই সোনা মনির ভবিষ্যতকে থামিয়ে দিলেও নুন্যতম খবর ও নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আবার যে হাসপাতাল সুস্থ করবে জীবনেকে, কে জানতো সেই হাসপাতালে গিয়েই ঘটবে এমন দুর্ঘটনা।

ব্যায় বহুল এই চিকিৎসার সহায়তা কিংবা এতটুকুন খবরও নেয়নি চাদপুরের ওই হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ।

মেঝেতে শুয়েও স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাশায় দিন পার করছে সাভারের আরেক কিশোরী। বাড়ির উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার হাত দুটোকেও অসাড় করে দিয়েছে। রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এবং প্লাস্টিক সার্জারী ইনিস্টিটিউটে প্রতি দিনই ভর্তি হচ্ছে এমন অনেক হতভাগ্য মানুষ। এদের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরাও।

সেবা আর পরিবারের জীবিকার জন্য যে হাত ছিলো কর্মক্ষম, তা এখন অক্ষম। সান্তনা এতটুকুই সহায়তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এবং প্লাস্টিক সার্জারী ইনিস্টিটিউট এর সমন্বয়কারী ডা সামন্ত লাল সেন জানান, দগ্ধ হওয়া রোগীদের অধিকাংশই বৈদ্যুতিক কারনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় সাপেক্ষ এ সব চিকিৎসা ব্যায় সাধ্য। হিমশিত খেতে হয় পরিবারকে।

এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করলেও, সাড়া মেলেনি পল্লী বিদ্যুত সমিতির চেয়ারম্যানের। এড়িয়ে গিয়েছেন বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের কর্তা ব্যাক্তিরাও।

সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাড়া দিয়েচেন ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, দূর্ঘটনা মুক্ত সেবা প্রদানে বিদ্যুত সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,সচেতনতার নেই কোন বিকল্প,তবে দায়িত্ব অবহেলাকেও নিতে হবে আমলে।

স্বজনদের আকুতি, এমন পরিনতি না আসুক কারো জীবনে।