বার্সেলোনাতেই থাকছেন লিওনেল মেসি

0
218

ঘটনার শুরু ২৫ আগস্ট যখন মেসি নিজেই জানিয়েছিলেন বার্সেলোনা ছাড়তে চাচ্ছেন। এর পর প্রতিদিন ক্লাব ও খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে নতুন সব খবর এসে চমকে দিয়েছে সবাইকে।

১৪ আগস্ট বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে গেলে জেরার্ড পিকেই প্রথম মুখ খুলেন। বলেন, ‘তলানিতে চলে এসেছি। ক্লাবে পরিবর্তন দরকার। দরকার হলে আমিই যাব।’ এরপর থেকেই প্রকাশ্যে আসে ক্লাবের সাথে খেলোয়াড়দের ঝামেলার বিষয়টি।

১৬ আগস্ট কোচ কিকে সেতিয়েনকে ছাঁটাই করে বার্সেলোনা। ক্লাবের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মেসির কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কারণ, তখন শিরোপাহীন এক মৌসুম কাটানোর হতাশা ভুলতে পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাচ্ছিলেন মেসি।

২০ আগস্ট দায়িত্ব দেওয়া হয় নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যানকে। কোচের সঙ্গে দেখা করতে ছুটি থেকে ফিরে আসেন মেসি। সেদিনই মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার গুঞ্জনের শুরু।

৫ দিনের গুঞ্জন সত্যি করলেন মেসি নিজেই ২৫ আগস্ট ক্লাবকে বুরোফ্যাক্স পাঠিয়ে। ফ্যাক্সে জানান ক্লাব ছাড়তে চান।

মেসির ক্লাব ছাড়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে চাপ নিতে না পেরে ২৭ আগস্ট ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ জানালেন, মেসি যদি প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন, তাহলে তিনি তাই করবেন।

এরপর ৩০ আগস্ট লা লিগা জানিয়ে দিল, মেসি ক্লাব ছাড়তে চাইলে ৭০ কোটি ইউরোর বাই আউট ক্লজ দিয়েই যেতে হবে।

পরের দিন ৩১ আগস্ট প্রাক মৌসুম অনুশীলন শুরু হয় বার্সেলোনার। কিন্তু মেসি অনুশীলনে যোগ দেননি। ফলে তাঁর ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন ভারী হয় আরও।

অবশেষে ২ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনা থেকে বার্সেলোনায় আসেন মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি।

৩ সেপ্টেম্বর বার্সেলোনার সঙ্গে আলোচনা হয় হোর্হের। কিন্তু দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকল। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না।

শেষে ৪ সেপ্টেম্বর লা লিগা চুক্তির শর্ত বুঝতে ভুল করেছেন জানিয়ে বিবৃতি দেন মেসি। চাইলে বিনা ট্রান্সফার ফিতেই যেতে পারেন বলে দাবি করেছেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। অবশেষে বাংলাদেশ সময় রাত দশটায় মেসি ও বার্সেলোনার মধ্যকার সৃষ্ট ঝামেলার ইতি ঘটিয়ে মেসি জানালেন বার্সেলোনাতেই থাকবেন তিনি। আর সেটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে। চাইলে আইনি সহায়তা নিয়ে ক্লাব ছাড়তে পারতেন কিন্তু যে ক্লাব এত কিছু দিয়েছে, শূন্য থেকে বানিয়েছে তারকা—তাঁদের কিভাবে আদালতে নেবেন মেসি? অনিচ্ছা নিয়েই তাই চুক্তির বাকি বছরটা বার্সেলোনায় খেলার কথা জানালেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

আর্জেন্টাইন মিডিয়াগুলো আগে থেকেই জানাচ্ছিল গতকাল ৫টার মধ্যে জানাবেন নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। গোলডটকমকে আগেই দিয়ে রেখেছিলেন সাক্ষাৎকার। সেটাই প্রকাশিত হলো ঠিক সময়ে। মেসি আরো একটা বছর থাকার কথা বলে জানালেন, ‘আমি আসলে কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাইনি। বার্সেলোনার বিপক্ষে আদালতে যেতে চাইনি কখনো। কারণ বার্সা এমন এক ক্লাব, যারা সব কিছু দিয়েছে আমাকে। আমি বার্সেলোনাকে ভালোবাসি।’ অনিচ্ছা নিয়ে থেকে যাওয়ায়, এই ভালোবাসাটা আগামী এক বছর কতটা থাকবে সেটাই দেখার।

তবে এবারই প্রথম নয়, যে কোনো দল ছাড়তে চেয়ে ফিরে এসেছেন এলএমটেন। এর আগেও একবার নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিলেন তিনি।

সর্বশেষ ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা হেরে গেলে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তই নেন মেসি। তবে মাসখানেক পরেই আলবিসেলেস্তাদের নেতৃত্বে ফিরে আসেন তিনি।

এবার চার বছর পর ২০ বছরের ক্লাব বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মেসি। তবে অবেশেষে ফিরে এলেন।