বিকেলে ঢাকায় আসছেন পোপ; বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন রাষ্ট্রপতি

0
91

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বিকালে ঢাকায় আসছেন কাথলিক খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে এ সফরে অাসছেন পোপ।

পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ব্রাজিল, কানাডা, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন। তারই অংশ হিসেবে শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসছেন তিনি।

বিকাল তিনটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। পরে তিনি জাতীয় স্মৃতি সৌধ এবং ধানমন্ডিতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দেয়া হবে। বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন পোপ ফ্রান্সিস। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন।

বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তারপর তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

পোপ ফ্রান্সিসের ঢাকায় আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পোপের সফরের সময় রোহিঙ্গা সঙ্কটকেই প্রাধান্য দেয়া হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়েই পোপকে ঢাকার বার্তা দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে ঢাকার রমনা ক্যাথেড্রাল থেকে জানানো হয়েছে, পোপের সফরের প্রতিপাদ্য হলো শান্তি ও সম্প্রীতি। সরকারের অনুমোদন নিয়ে আয়োজকরা রোহিঙ্গাদের একটি ছোট গ্রুপকে ঢাকায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

পোপের সফর ঘিরে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। উদ্যানের কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় খড়ের ঘরের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে মঞ্চ। বিশেষ এই মঞ্চে ধারণ করা হয়েছে বাংলার ঐতিহ্য। এই মঞ্চেই বসবেন পোপ ফ্রান্সিস। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১ ডিসেম্বর প্রায় এক লাখ খ্রিষ্টানভক্তের সমাবেশ ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন পোপ ফ্রান্সিস।

৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পোপকে স্বাগত জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সেখান থেকে বিকাল ৪টায় পোপ সাভারে গিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন।

এরপর বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে তিনি ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে যাবেন। সেখান থেকে বঙ্গভবনে গিয়ে পোপ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় পোপ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ভবনে সাক্ষাৎ করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিনে পোপ আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খিস্ট্র ধর্মীয় উপাসনা ও যাজক অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি প্রায় ৮০ হাজার খ্রিস্টভক্তসহ লাখো মানুষের সমাবেশে বক্তৃতা করবেন। বেলা ৩টা ২০ মিনিটে পোপ ফ্রান্সিস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর বিকাল ৪টায় তিনি কাকরাইলে চার্চে যাবেন।

এছাড়া সফরের শেষদিন শনিবার সকাল ১০টায় পোপ তেজগাঁও মাদার তেরেসা হাউজে যাবেন। সেখানে খ্রিস্ট ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দুপুর পৌনে ১২টায় হলি রোজারি চার্চে যাবেন। এরপর বেলা ৩টা ২০ মিনিটে মতিঝিলে নটর ডেম কলেজে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ওইদিন বিকাল ৫টায় পোপের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

এর আগে পোপ ফ্রান্সিসের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভ্যাটিকানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার ও ঘনিষ্ঠ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে পোপের আগমন উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা। সরকারের পাশাপাশি খ্রিস্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও পোপের সফরকে মসৃণ করতে চলছে নানা রকম প্রস্তুতি।

১৯৮৬ সালে পোপ জন পল দ্বিতীয়’র পর এই প্রথম আরেক জন পোপ বাংলাদেশে আসছেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন আর ধর্মনিরপেক্ষ বৈশিষ্ট্য দেখতে আগ্রহী। ঋতুর বৈচিত্র্য বিবেচনায় সবচেয়ে অনুকূল সময় হিসেবে নভেম্বরকেই বেছে নেয়া হয়েছে।