সজাগ থাকুন, স্বাধীনতাবিরোধীরা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

0
107

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন ক্ষমতায় আসতে না পরে সেলক্ষে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ এবং মাদকমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

৭মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

৭৫ পরবর্তী সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম শক্তি ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে একটি প্রদেশকে একটি রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, কিছু মানুষ কখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি বরং ওই যুদ্ধাপরাধীরা পাক-হানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে বারবার বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।

১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। আর এই স্বাধীনতা অর্জন করতে ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে করণীয় বলে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এর আগে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জনসভা শুরু হয়।

এ জনসভা বুধবার দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই উদ্যান এলাকায় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন। সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাতে ছিলো ব্যানার-ফেস্টুন। অনেকের গায়ে একই রঙের টি-শার্ট, মাথায় একই রঙের ক্যাপ। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে উদ্যান এলাকা।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।  বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্ব ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর বাংলাদেশে এই প্রথম দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

৭ মার্চ উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ভাষণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের নির্দেশনা দেন। এছাড়া ৭ মার্চে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখা যায়, লাল-সবুজের টি-শার্ট ও মাথায় ক্যাপ পরে পায়ে হেঁটে বা পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও বাসযোগে বিভিন্ন সড়ক ধরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে আসছেন ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা।

দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও দিনটি উদযাপনের জন্য আসছেন উদ্যানে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করতে দেয়নি তখনকার পাকিস্তান সরকার। প্রায় সাড়ে ৪৬ বছর পর বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ অমূল্য বিশ্বসম্পদ ও ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তা সংরক্ষণ করার এবং বিশ্বকে জানানোর দায়িত্ব নিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো)।

১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ ছিল কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা।

ইউনেসকো তার ওয়েবসাইটে আরো লিখেছে, উপনিবেশ থেকে মুক্ত হওয়া জাতিরাষ্ট্রগুলো অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে ব্যর্থ হয়ে কিভাবে বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জনগণকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, তার যথার্থ প্রামাণ্য দলিল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ ছিল তাৎক্ষণিক, লেখা দেখে তিনি ভাষণ দেননি। তবে তার ওই ভাষণ অডিও ও অডিও ভিজ্যুয়াল (এভি) সংস্করণে এখনো টিকে আছে।