বিদেশী কূটনীতিকদের সম্মানে চা-চক্রে প্রধানমন্ত্রী

0
160

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও চা-চক্রে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কূটনীতিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের সবুজ লনে সোমবার বিকেলে এ চা-চক্রের আয়োজন করা হয়। এ চা-চক্রে আসা কূটনীতিকদের পদভারে মুখরিত গণভবনের সবুজ লন।

বিদেশী অতিথিদের সম্মানে গণভবনের দক্ষিণের সবুজ লনটি সাজানো হয়েছিল বাংলার কৃষ্টি-কালচার-সংস্কৃতিকে ধারণ করে।

কুঁড়েঘর, মাদুর, মোড়াসহ গ্রাম-গঞ্জের নানা উপকরণ দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছিল দক্ষিণ লনটি। সাউন্ড স্পীকারে মৃদু সুরে বাজানো হচ্ছিল নানা দেশাত্মবোধক গান।

বিকেল সাড়ে তিনটার আগে থেকেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গণভবনে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। প্রধানমন্ত্রী বিকেল চারটার কিছু পর অনুষ্ঠানস্থলে আসেন।

ঘুরে ঘুরে কূটনীতিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় কূটনীতিকরাও ফুল দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়া শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছাও জানান। এই অনুষ্ঠানে কূটনীতিক ও মিশন প্রধানদের অনেকে সপরিবারেও যোগ দিয়েছিলেন।

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, কানাডা, চীন, ভারত, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, ভ্যাটিক্যান সিটিসহ প্রায় ৫০টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশন প্রধানরা চা-চক্রে অংশ নেন।

জাতিসংঘ, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি, ইউএনএইচসিআর, হু, ডব্লিউএফপি, আইএলও, ইউনিসেফের বাংলাদেশে নিযুক্ত শীর্ষ প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মিশনের প্রধান গণভবনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ পেয়ে।

ভূমিধস নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে রেকর্ডসংখ্যক টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে সরকার গঠনের পর বিদেশী অতিথিদের সঙ্গে এটিই ছিল শেখ হাসিনার প্রথম কোন শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান।

ফুচকা, চটপটি ছাড়াও বিদেশী অতিথিদের আপ্যায়নের তালিকায় ছিল ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলি পিঠা, কদমা, মোয়া, জিলাপি, মুরালিসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা।

এছাড়া নানা জাতের ফল, মুরগি, খাসি ও গরুর কাবাব, নানরুটি, চাপাতি, চা-কফিসহ বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী খাবারও ছিল অতিথিদের পাতে। আমন্ত্রিত কূটনীতিকরা কুশল বিনিময়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর মেয়ে মনোবিদ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সালমান এফ রহমান, বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।