বিশ্বব্যাপী এক তৃতীয়াংশ নারী সহিংসতার শিকার

0
50

বিশ্বব্যাপী প্রতি তিনজনে একজন নারী যৌন হয়রানি অথবা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। করোনা মহামারিকালে এই নিপীড়নমূলক আচরণ আরও বেড়েছে।মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

প্রতিবেদনে নারীরা বেশি সহিংসতার শিকার হন, এমন ছয়টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নামও রয়েছে। অন্য দেশগুলো হলো: কিরিবাতি, ফিজি, পাপুয়া নিউ গিনি, কঙ্গো ও আফগানিস্তান। প্রতিবেদন বলছে, ইউরোপে নারীদের সহিংসতার শিকার হওয়ার হার সবচেয়ে কম। সেখানে ২৩ শতাংশ নারী সহিংসতার শিকার হন।

১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৩১ শতাংশ নারী অর্থাৎ বিশ্বের ৮৫ কোটির বেশি নারী শারীরিক বা যৌন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা বলছে, এ পর্যন্ত নারীদের ওপর সহিংসতার বিষয়ে করা এটাই সবচেয়ে বড় গবেষণা। ২০০০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ জরিপ এবং তথ্যও এতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দরিদ্র দেশগুলোতে একজন স্বামী বা নারীর অন্তরঙ্গ সঙ্গীর দ্বারাই তারা সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হয়ে থাকেন। সেখানে বলা হয়েছে, এক চতুর্থাংশ নারী তাদের সঙ্গীর হাতে হেনস্তা বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। অনেক সময় একজন মেয়ে তার ১৫ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন ধরনের মানুষের কাছে হেনস্তার শিকার হয়ে থাকেন এবং এটা তাকে সারাজীবন বয়ে নিয়ে যেতে হয়।

করোনা মহামারিতে বিভিন্ন দেশেই নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নারীরা বাড়ির বাইরে যেতে না পারায় তারা তাদের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন বা কাছের কারও কাছ থেকে সহায়তা নিতে পারেননি। তাদেরকে নিজেদের নির্যাতনকারীর সঙ্গে একই স্থানে অনেক বেশি সময় ধরে থাকতে হয়েছে। ফলে নির্যাতনের মাত্রাও বেড়ে গেছে।

প্লান ইন্টারন্যাশনালের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কলম্বিয়ায় লকডাউন শুরুর পর সেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা অন্যান্য বছরের তুলনায় ১৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে যা সত্যিই খুব আশঙ্কাজনক।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও সহিংসতা রোধের জন্য ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বিশ্বের সরকারগুলোকে সহিংসতা প্রতিরোধ, ভিক্টিমের প্রতি সেবার মান উন্নয়ন এবং নারী ও কিশোরীদের আরোপিত অর্থনৈতিক অসমতা দূর করার আহ্বান জানিয়েছে। ছেলেদের স্কুলে পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিষয়টি শেখানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংস্থার কর্মকর্তারা। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সব খবর প্রকাশিত না হওয়ায় নারীদের প্রতি সহিংসতার প্রকৃত তথ্য জানা কঠিন।