বিশ্বের প্রথম এসএমএসে কি লেখা ছিলো?

0
117

শর্ট মেসেজ সার্ভিস (এসএমএস) বাংলায় আমরা যাকে খুদে বার্তা তা আধুনিক যোগাযোগের অন্যতম হাতিয়ার এটি। তবে জানেন কি পৃথিবীর প্রথম এসএমএসে কী লেখা হয়েছিল?

আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ইডিএন নেটওয়ার্ক জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশল সংস্থা ‘সেমা গ্রুপ’-এর ২২ বছর বয়সী প্রকৌশলী নেইল পাপওয়ার্থ বিশ্বের প্রথম এসএমএস পাঠান তার বন্ধু রিচার্ড জারভিসের মোবাইল ফোনে। তবে এই বার্তাটি পাঠানোর জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করেননি নেইল। কম্পিউটার থেকে তিনি এই বার্তাটি পাঠান। তাঁর এই বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল ১৯৯২ সালের ৩ ডিসেম্বর।

প্রশ্ন হচ্ছে কী লেখা হয়েছিল সেই বার্তায়? তারিখটা যেহেতু ছিল ৩ ডিসেম্বর তাই ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে নেইল লিখেছিলেন, ‘মেরি ক্রিসমাস’ অর্থাৎ শুভ বড়দিন। ভোডাফোন মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নেইলের বার্তাটি পৌঁছে যায় তার বন্ধুর কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের জিএসএম ক্যারিয়ার ওমনিপয়েন্ট কমিউনিকেশনস সে দেশে প্রথম টেক্সট ম্যাসেজিংয়ের কাঠামো তৈরি করে। কিছুদিনের মধ্যে তা মার্কিন মুলুক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময় ১৬০ শব্দের বেশি এসএমএস পাঠানোর সুযোগ ছিল না।

প্রথম দিকে অবশ্য এসএমএস প্রযুক্তি মুখ থুবড়ে পড়ে। এটি ব্যবহারকারীদের মাঝে অতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। পরিসংখ্যান জানায়, ১৯৯৫ সালে জিএসএম সার্ভিস ব্যবহারকারীরা প্রতিমাসে গড়ে মাত্র ০.৪ টি টেক্সট মেসেজ পাঠাত। অনেক ব্যবহারকারী অতিরিক্ত বিল ওঠার ভয়ে মেসেজ বা বার্তা পাঠাতে চাইত না।

তবে বর্তমান সময়ে এসএমএস যোগাযোগের অন্যতম একটি মাধ্যম। এসএমএসের মূলনীতিকে আধুনিকভাবে ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে ভাইবার, মেসেঞ্জার, ইমোর মতো যোগাযোগের অ্যাপসগুলো। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটর শুধু এসএমএস সার্ভিস থেকে আয় করেছে প্রায় ৫৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে যে শুধু আয় বেড়েছে তাই নয়। এসএমএসের মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে অক্সফোর্ড ডিকশনারি তাদের তালিকায় ‘লোল’ (লাফিং আউট লাউড অথবা লাফ আউট লাউড) শব্দটি যুক্ত করেছে।