বৃহস্পতিবার বিচারপতিদের সঙ্গে বসবেন আইনমন্ত্রী

0
67

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালার গেজেট প্রকাশ নিয়ে জটিলতা নিরসনে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের বিচারকদের সঙ্গে বসবেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ওই গেজেট নিয়ে রোববার আপিল বিভাগের শুনানিতে এ নিয়ে আলোচনার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বাইরে এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, “এ মামলায় আমরা আবার চার সপ্তাহ সময় নিয়েছি। আমি আদালতকে জানিয়েছি, আদালতের সাথে মাননীয় আইনমন্ত্রী বসতে চান। জিনিসটা কীভাবে সলভ করা যায়। টেনটেটিভলি আগামী বৃহস্পতিবার বসতে পারেন।”

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের দীর্ঘ টানাপড়েনের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ওই বিধিমালার খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দিলেও প্রধান বিচারপতি গত ৩০ জুলাই তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই খসড়া গ্রহণ না করে প্রধান বিচারপতি মতপার্থক্য নিরসনে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় ডাকলেও আইনমন্ত্রী এখন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যাননি।

এ কারণ ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ২০ অগাস্ট প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, “এতই আমরা ইয়ে হয়ে গেলাম… আলোচনা পর্যন্ত করলেন না?”

এরই মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতীয় সংসদে ওই রায় এবং সেখানে বিচারপতি সিনহার পর্যবেক্ষণের সমালোচনা করেন।

তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে প্রধান বিচারপতি গত ৩ অক্টোবর থেকে ছুটিতে যান। তিনি দায়িত্বে না ফেরা পর্যন্ত আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির কার্যভার দেওয়া হয়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক(ফাইল ছবি) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক(ফাইল ছবি) প্রধান বিচারপতিকে ‘জোর করে’ ছুটিতে পাঠানো হয়েছে- বিএনপির এমন অভিযোগের মধ্যেই ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন বিচারপতি সিনহা।
যাওয়ার আগে তিনি বলেন যান, তিনি ‘অসুস্থ নন’, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় ‘বিব্রত’। তার বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল রায় নিয়ে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তার ওপর ‘অভিমান’ করেছেন।

প্রধান বিচারপতি দেশ ছাড়ার পরদিনই সুপ্রিম কোর্টের বিরল এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারপতির সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, অর্থ পাচার ও নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

সহকর্মীরা এর ব্যাখ্যা চাইলে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা বিচারপতি সিনহা দিতে পারেননি। এ কারণে তারা অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত একই বেঞ্চে বসতে রাজি নন বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।

এপর ১৮ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে, তার অনুসন্ধান হবে এবং তা দুদকের মাধ্যমে করা হতে পারে।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর বিচারকদের চাকরিবিধির এ বিষয়টি গত ৮ অক্টোবর আপিল বিভাগে উঠলে সে সময় ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

সে অনুযায়ী বিষয়টি রোববার আদালতে ওঠে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল আবারও সময়ের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, “আগের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যেভাবে চাইতেন, রুলসটা যেভাবে হোক, তাতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় নানা রকম কার্টেল হওয়ার একটা বিষয় দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। সে জন্য সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জিনিসটা কীভাবে সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হতে পারে সে ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করছে। গতকাল আইনমন্ত্রীর সাথে আমার এ ধরনের কথা হয়েছে।’

রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা গত ৮ অক্টোবর বলেছিলেন, “শৃঙ্খলাবিধি হবে, তবে সংবিধানের যে বিধিবিধান আছে, সেটাকে অক্ষুণ্ন রেখে। এ ব্যাপারে সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দেওয়া আছে, সে ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে বিধিবিধান তৈরি করতে হবে।”