বেগম রোকেয়া দিবস আজ ; নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিবসটি

0
66

আজ ৯ ডিসেম্বর । নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের
জন্মদিন। ১৯৩২ সালের এ দিনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। দিনটি রোকেয়া দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দে এক জমিদার পরিবারে রোকেয়ার জন্ম হয়। রোকেয়া খাতুন, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, মিসেস আর এস হোসেন নামেও লিখতেন এবং পরিচিত ছিলেন তিনি।

ঊনবিংশ শতকে নারীরা যখন ছিলেন অধিকারহীন, সেই সময়ে এর বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ উচ্চকিত করেছেন। দিবসটি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রোকেয়া দিবস উদ্যাপন ও বেগম রোকেয়া পদক-২০১৭ প্রদান করা হবে।

এ বছর রোকেয়া পদক পেয়েছেন চিত্রশিল্পী সুরাইয়া রহমান, লেখক শোভা রানী ত্রিপুরা, সাংবাদিক মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ (মরণোত্তর), সংগঠক মাজেদা শওকত আলী, সমাজকর্মী মাসুদা ফারুক রত্না। আজ শনিবার তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

১৯৩২ সালের একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। সে হিসেবে বেগম রোকেয়ার ১৩৭তম জন্মদিন ও ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ৯ ডিসেম্বর।

নারীমুক্তি আন্দোলন ও নারী জাগরণ বেগবান করার দৃপ্ত শপথে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সারাদেশে আজ শনিবার দিবসটি পালিত হবে। বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

এ উপলক্ষে বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘বৈষম্যহীন সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বেগম রোকেয়ার জীবনাদর্শ ও কর্ম আমাদের নারী সমাজের অগ্রযাত্রায় প্রেরণা জোগাবে।’
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বেগম রোকেয়ার আদর্শ, সাহস, কর্মময় জীবন নারী সমাজের এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস।

আরেক বাণীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘সংসার, সমাজ ও অর্থনীতি জীবনের এই তিনটি ক্ষেত্রে নারীকে স্বায়ত্তশাসিত ও আত্মমর্যাদাশীল হতে তিনি (রোকেয়া) গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন

রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার ব্যবস্থায় নারীর সমান অধিকারের জন্য বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আমৃত্যু লড়াই করেছেন। মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী ইত্যাদি কালজয়ী গ্রন্থে ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও নারীর বন্দিদশার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন।

এ ছাড়াও বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও পণপ্রথাসহ নারীর প্রতি অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সচেষ্ট।