এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম

0
239

মুবাল্লিগ করিম:

সম্প্রচারের জন্য দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বিদেশি স্যাটেলাইটকে বছরে ভাড়া বাবদ প্রায় ১১শ’ কোটি ডলার দিচ্ছে।

সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে ফ্রিকোয়েন্সি নিলে ওই টাকা দেশেই থেকে যাবে; যা দেশের আয়ের একটা বড় অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড-বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, বছরে ৫ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড এরই মধ্যে বাণিজ্যিক বিপণনের কাজ শুরু করেছে।

উৎক্ষেপণের এক বছর পর বাণিজ্যিক সম্প্রচারে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এখন এর সঙ্গে যুক্ত দেশের সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনগুলো।

কেবল সংযোগ ছাড়াই স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখার সুযোগ ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম প্রযুক্তি চালু করার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক যাত্রাও এরই মধ্যে শুরু করেছে এই স্যাটেলাইট।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে গতবছরের ১১ মে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এই নির্মাতা থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। উৎক্ষেপণের ছয় মাস পর এর দায়িত্ব বুঝে নেয় বিসিএসসিএল।

নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হতে বাংলাদেশের ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা খরচ হয়। তবে এখনো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সরকারের আয়ের খাতায় নাম লেখাতে পারেনি।

বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, বাণিজ্যিক স¤প্রচারে প্রথম তিন মাস বিনা মূল্যে সেবা দেয়া হবে। এ সময় কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

এছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইটের ব্যবহারের ফলে দেশে টাকা দেশেই থাকবে, যা দেশের অর্থনীতি কে প্রভাবিত করবে। এছাড়া টিভি চ্যালেন কর্তৃপক্ষকে পেমেন্টের ক্ষেত্রে কম ঝামেলা পোহাতে হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি কেইউ-ব্যান্ড ও ১৪টি সি-ব্যান্ড। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আধুনিক ইনস্যাট সি-ব্যান্ড প্রযুক্তির। আর দেশের টিভি চ্যানেলগুলো চলছে ৮ থেকে ১০ বছরের পুরোনো প্রযুক্তিতে। তাই স্যাটেলাইটের সঙ্গে চ্যানেলগুলোর সংগতি মেলাতে সময় লেগেছে।

গত বছরের নভেম্বরে দেশের নয়টি টেলিভিশন চ্যানেল ও একটি ক্যাবল অপারেটর পরীক্ষামূলকভাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। পরীক্ষামূলক স¤প্রচারে যাওয়া তিনটি টিভি চ্যানেল জানায়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দিয়ে তারা বেশ শক্তিশালী ও ভালো মানের সিগন্যাল পেয়েছে।

দুটি স্থানীয় ভি-স্যাট কোম্পানির সঙ্গেও চুক্তিতে যাচ্ছে বিসিএসসিএল। এটা হলে খুব তারাতারি আয় করতে শুরু করবে স্যাটেলাইট।

বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, বছরে ৫ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের টার্গেট নিয়ে বিসিএসসিএল) বাণিজ্যিক বিপণনের কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশের মধ্যে সেবা দিতে বিসিএসসিএল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে। চুক্তির ফলে স্যাটেলাইট থেকে নৌযানে অত্যাধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।

এর বাইরে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাকিস্তান এবং উজবেকিস্তানের সঙ্গেও বিসিএসসিএল যোগাযোগ করে যাচ্ছে।