ভারতজুড়ে উন্মত্ত করণী সেনারা, চার রাজ্যের মাল্টিপ্লেক্সে পদ্মাবত প্রদর্শনী বন্ধ

0
82

হলুদ রঙের স্কুলবাসের মেঝেতে কুঁকড়ে বসে আছে ছোট শিশুরা। বয়স ৪ থেকে ৫। কেউ ভয়ে চোখ ঢেকেছে। কেউ কেউ আতঙ্কে শিক্ষিকার কোলে মুখ গুঁজে রয়েছে। তুলনায় বড় ছেলে মেয়েরাও দু’সারি আসনের মাঝের জায়গাটুকুতে মাথায় হাত দিয়ে বাঁচতে ব্যস্ত।

বাইরে তখন বাস লক্ষ্য করে উড়ে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাথর। বাসের সামনের কাঁচ ভেঙে হাঁ। জানলার কাচঁও গুঁড়িয়ে পড়েছে আসনের উপরে। ভয়ে কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছে নার্সারির কয়েকটি শিশু। মোবাইলে তোলা মিনিট দেড়েকের এই ভিডিও এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ভারতের গুণী নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বনশালীর  ‘পদ্মাবত’ ঘিরে রাজপুত সংগঠন করণী সেনারা এমন তাণ্ডব চালাচ্ছে। ঘটনাস্থল গুরুগ্রামের কাছে ওয়াজিরপুর-পটৌডি রোড। ওই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিল জি ডি গোয়েঙ্কা ওয়ার্ল্ড স্কুলের বাসটি। তখন বাসে জনা ২৫ পড়ুয়া। ছিলেন কিছু শিক্ষিকা আর স্কুলের কিছু কর্মীও।

যাত্রীবাহী গাড়ীতে আগুন, ভেতরে আতঙ্কগ্রস্ত যাত্রীরা

করণী সেনার সমর্থকরা প্রথমে পোড়াচ্ছিল হরিয়ানা সরকারের একটি সরকারি বাস। ঠিক পেছনেই থাকা স্কুল বাসটিকেও রেয়াত করেনি তারা। নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ছিল বাসে। এক শিক্ষিকা বললেন, পুলিশ সামনেই ছিল। তবে বিক্ষোভকারীরা তাদের পাত্তাই দিচ্ছিল না।

গোটা ঘটনার জন্য হরিয়ানা সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে দুষেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রাহুল গান্ধীও টুইটে বলেছেন, ‘কোনও যুক্তিতেই শিশুদের হামলার নিশানা করা যায় না। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস।

অাহমেবাদ থেকে লখনউ, গুরুগ্রাম থেকে মথুরা। সর্বত্র ছবিটা আজ একই রকম। ছবি মুক্তির প্রতিবাদে তাণ্ডব চালিয়েছে করণী সেনা। আর এর জেরে দেশের চারটি রাজ্যে ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘মাল্টিপ্লেক্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’।

সভাপতি দীপক আশ জানিয়েছেন, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও গোয়ার মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে আজ  মুক্তি পাচ্ছে না পদ্মাবত।

ছবিটি মুক্তি পেলে দেশের প্রতিটি সিনেমা হলের সামনে ‘জনতা কার্ফু’ জারি হবে বলে ফের হুমকি দিয়েছেন করণী সেনার সভাপতি লোকেন্দ্র সিংহ কালভি। তাঁর হুঁশিয়ারি, সর্বশক্তি দিয়ে এই ছবির মুক্তি আমরা রুখব।

করণী সেনারা সব চেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে গুজরাটে। শুধু অাহমেদাবাদেই পুলিশ ৫০ জনকে আটক করে। সেখানে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৩০টি মোটরবাইক। রাজস্থানে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে না জেনেও জয়পুরে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ হয়। মুম্বাই, লখনউ, ভোপাল, মথুরাতেও গাড়ি পুড়েছে। মুম্বাইয়ে আটক হয়েছে ৫০ জন।