ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ তুষারধস; শতাধিক মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

0
69

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জোশিমঠে হিমবাহ ভেঙে তুষার ধসের ঘটনায় একশর’ বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবার সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তুষারধসের কারণে অলকানন্দা নদীর ঋষিগঙ্গা বাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধৌলিগঙ্গার বাঁধে ফাটল দেখা গেছে। নদীর পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে। নদী তীরবর্তী গ্রামগুলি প্লাবিত হয়েছে। ধৌলিগঙ্গা এলাকায় রেনি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঋষিগঙ্গা বিদ্যুৎ প্রকল্পের দেড় শতাধিক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে।

সংবাদসংস্থা এএনআইকে উত্তরাখাণ্ডের মুখ্যসচিব ওম প্রকাশ জানিয়েছেন, অনেকেই পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে থাকতে পারেন। তাদের ভাগ্যে আসলেই কী ঘটেছে তা এখনও অনিশ্চিত। হতাহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তিনি জানিয়েছেন, ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, তার সঙ্গে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তিনি পুরো বিষয়টির উপর নজর রাখছেন। তিনি বলেন, ‘পুরো দেশ উত্তরাখণ্ডের পাশে আছে। বিপন্ন মানুষদের জন্য প্রার্থনা করছে দেশবাসী। আমি নিজে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। উদ্ধার কাজের প্রতি মুহূর্তের খবর রাখছি আমি।’

রেইনি গ্রামের তপোবন এলাকায় ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, বাঁধ ভাঙা জল নদীর দু’পাশের বাড়ি ঘর ভেঙে তীব্র গতিতে এগোচ্ছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ভারত-তিব্বত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ২০০ জনের উদ্ধারকারী দল। চামোলি থেকে ঋষিকেশ যাওয়ার রাস্তায় ইতোমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ধসের কারণে ধউলিগঙ্গার দু’পাশের গ্রাম খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তপোবনের কাছে নন্দাদেবী হিমবাহে ফাটল ধরায় ঋষিগঙ্গা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

চামোলি থানার পুলিশ জানিয়েছে, অলকানন্দা নদীর তীরে যে বসতিগুলি রয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সেই জায়গাগুলিও খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাগিরথী নদীর গতিপথ বন্ধ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের গঙ্গার দু’পারেও জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। ঘটনায় আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। শ্রীনগর ও ঋষিকেশ বাধের লাগোয়া অঞ্চল খালি করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এই ঘটনা এত দ্রুত ঘটেছে যে কাউকে সতর্ক করার সময়ও পাওয়া যায়নি। ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কোনো ধারণা নেই যে কতজন নিখোঁজ রয়েছে।

এর আগে ২০১৩ সালে প্রবল বৃষ্টি ও হরপা বানে উত্তরাখণ্ডে প্রায় ছয় হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।