ভারতে নিজেদের কার্যক্রম স্থগিত করতে যাচ্ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

0
157

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারতে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, ভারত সরকার দেশটিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করায় কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার বিবিসি এ তথ্য জানায়।

তাদের অভিযোগ, দেশটির সরকার তাদের কাজে ‘প্রতিনিয়ত বাধা’ ও ‘হয়রানি’ করছে।

এক বিবৃতিতে জারি করে সংস্থাটি জানায়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভারতের সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে সরকার। ফলে বাধ্য হয়ে সংস্থার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতের সব কর্মীকেও আপাতত কর্মচ্যুত করতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি। সব প্রচার ও গবেষণার কাজও বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে তারা।

ভারতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক অভিনাশ কুমার মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে ভারতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে বাধা দেওয়া এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া আকস্মিক কোনো বিষয় নয়। সরকারের স্বচ্ছ্বতা নিয়ে বক্তব্যের কারণে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের মতো সরকারি এজেন্সিগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের হয়রানি করছে। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের দায়িত্ব, দিল্লি ও জম্মু-কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারতীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেও এমনটা করা হচ্ছে।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিসার্চ, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড পলিসি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর রজত খোসলা বিবিসিকে বলেন, ‘ভারতে আমরা অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে সম্মুখীন হয়েছি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকারের আগ্রাসন, আক্রমণ এবং হয়রানির মুখে পড়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছিলাম এবং ভারতে সরকারের কাছে যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলাম তার উত্তর তারা দিতে চাচ্ছে না। দিল্লির দাঙ্গার বিষয়ে বা জম্মু ও কাশ্মীরে বাকস্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনায় আমাদের তদন্ত প্রতিবেদনের উত্তর না দিয়ে অন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে ভারত সরকার।’

গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থা জানায়, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত ফেব্রুয়ারিতে হিন্দু এবং মুসলিমদের প্রাণঘাতী ধর্মীয় সংঘাতের সময় পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।

ব্রিটেনভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থার দাবি প্রত্যাখ্যান করে দিল্লি পুলিশ দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুকে জানায়, অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনটি একতরফা, পক্ষপাতদুষ্ট এবং বিদ্বেষপরায়ণ।

এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন বেআইনিভাবে বিদেশি তহবিল সংগ্রহ করছে। সংগঠনটি ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন আইনে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করায়নি। ভারতে কোনো এনজিওর বিদেশি তহবিল নিতে গেলে ওই আইনে নিবন্ধন করতে হয়।

তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দাবি, ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক সব নিয়ম মেনেই তারা সেখানে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

এর আগে ২০০৯ সালে ভারতে কার্যক্রম স্থগিত করেছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সেই সময় তাদের অভিযোগ ছিল, বিদেশ থেকে তহবিল পাওয়ার জন্য তাদের লাইসেন্স বারবার প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছিল। বর্তমান বিরোধী দল কংগ্রেস তখন ক্ষমতায় ছিল।