ভালবাসার স্মারক তাজমহল নির্মাণে এক হাজার হাতি ব্যবহৃত হয়েছিল

0
102

দিনে তিন বার রং বদলায় প্রেমের এই স্মৃতি সৌধ তাজমহল। সকালের রং থাকে গোলাপি, দুপুরে হয়ে যায় শ্বেতশুভ্র এবং চাঁদের আলোয় তার রূপ হয় স্বর্ণোজ্জ্বল।

সাদা মার্বেলের তৈরি তাজ মহলের গায়ে এক সময়ে ছিল ২৮ রকমের দামি পাথরের কারুকাজ। যমুনা নদীর উলটো পাড়ে তৈরি করার কথা ছিল কালো রঙের তাজ। কালো মার্বেল তাই এখনও দেখা যায় বর্তমানের তাজ মহলের বিপরীত দিশায়

তাজ মহলের চার ধারে যে চারটি স্তম্ভ রয়েছে তা সামান্য বাইরের দিকে হেলানো। যাতে, ভূমিকম্প বা অনুরূপ কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে স্তম্ভগুলো ভেঙে বাইরের দিকে পড়ে।

তাজ মহল নির্মাণের সময় প্রায় এক হাজার হাতি ব্যবহৃত হয়েছিল শুধুমাত্র জিনিস বহন করার জন্য। তাজের প্রতিটি দিক সমানভাবে নির্মাণ করা হয়।

তবে তাজ মহলের ভেতরের দুটি সমাধি আকারে সমান নয়। কারণ, ‘জনানা’র সমাধি সব সময়েই পুরুষ সমাধির থেকে ছোট। তাজ নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ২ লক্ষ টাকা। বর্তমানে যার মূল্য ১০০ কোটি টাকা

সম্রাট শাহজাহানের দরবারের প্রধান স্থাপত্যশিল্পী, উস্তাদ আহমেদ লহৌরির তত্ত্বাবধানে ২২ বছরের কঠোর পরিশ্রমে ২২ হাজার শিল্পী তৈরি করেছিলেন তাজ মহল।

পূর্ণিমা ও তার আগে ও পরের দুই রাতে তাজ মহল খুলে দেওয়া হয় ট্যুরিস্টদের জন্য। তবে তাঁদের সঙ্গে কেবল পাঁচটি জিনিস নিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকে— পানির বোতল, ছোট ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ও নারীদের ছোট পার্স।

বিশ্বের ‘পুরনো’ সপ্ত আশ্চর্যের একটি তাজ মহল, খুব স্বাভাবিকভাবেই স্থান করে নিয়েছে ইউনেস্কো-র এতিহ্য তালিকায়, ১৯৮৩ সালে।