‘ভিনগ্রহী যান’ দেখার দাবি পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তার

0
77

‘উড়ন্ত চাকি’-এর সঙ্গে দেখা হয়েছিল পেন্টাগনের ‘এফ/এ-১৮’ সুপার হর্নেট যুদ্ধ বিমানের? আকাশে হঠাৎই, ২০১৫-য়? ‘আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট (ইউএফও)’। যাকে আমরা বলি ‘উড়ন্ত চাকি’।

মার্কিন দৈনিক ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’কে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগনের এক গোয়েন্দা অফিসার লুইস এলিজোন্দো। সঙ্গে দিয়েছেন পেন্টাগনের সদ্য প্রকাশ করা গোপন ইউএফও ফাইল থেকে নেওয়া একটি ভিডিও।

তিনি জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে আমেরিকার পূর্ব উপকূলের উপর আকাশে ওই উড়ন্ত চাকির সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়েছিল ওই মার্কিন যুদ্ধ বিমানের।

৩৫ সেকেন্ডের সেই ভিডিওয় শোনা গিয়েছে, আকাশে হঠাৎ ডিমের মতো ওই ‘ভিনগ্রহীদের যান’ উড়ন্ত চাকিকে দেখে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ বিমানের এক পাইলট চমকে উঠে বলছেন, ‘‘ও মা! এটা কী?’’ সহ পাইলটকে তিনি বলছেন, ‘‘দেখো, দেখো, ওটা কী উড়ে যাচ্ছে?’’

গত তিন মাসে এই নিয়ে তৃতীয় বার ইউএফও সংক্রান্ত গোপন ফাইল প্রকাশ করল পেন্টাগন। এমন গোপন ফাইল পেন্টাগন প্রথম প্রকাশ করেছিল গত ডিসেম্বরে। জানিয়েছিল, আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তের আকাশে উড়ন্ত চাকিদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ পর্যন্ত একটি কর্মসূচি ছিল পেন্টাগনের। যার নাম- ‘অ্যাডভান্সড এভিয়েশন থ্রেট আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ (এএটিআইপি বা ‘অ্যাটিপ’)।

তার আগে ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত ২২ বছর ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর বিমান আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তের আকাশে উড়ন্ত চাকি বা ‘দেবতাদের প্লেন’ এর দেখা পেয়েছিল অন্তত ১২ হাজার বার। বিমানবাহিনীর ‘প্রজেক্ট ব্লু বুক’-এ সেই সব ঘটনাই নথিভুক্ত ছিল।

তবে নানা রকমের প্রশাসনিক চাপে মার্কিন বিমানবাহিনীর সেই প্রজেক্ট ব্লু বুক ‘সিল’ করা হয়। যুক্তি দেওয়া হয়, ‘‘সমকালীন বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি দিয়ে ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছে না।’’

মার্কিন বিমানবাহিনীর পক্ষে এও বলা হয়, ‘‘এমন কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ হাতে নেই যা দিয়ে বলা যায় ওই যানগুলো একস্ট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল (ভিনগ্রহীদের) বা ‘দেবতাদের প্লেন’।’’ পেন্টাগনের গোয়েন্দা অফিসার লুইস এলিজোন্দো গত বছর চাকরি ছাড়ার পরেই এমন তিনটি ভিডিওর কথা জানাজানি হয়।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর সাংবাদিক জোবি ওয়ারিক তাঁর প্রতিবেদনে লিখেছিলেন, ‘‘পেন্টাগন বা ‘অ্যাটিপ’-এর কোনও কর্মকর্তাই পৃথিবীতে ভিনগ্রহীদের আসা-যাওয়ার কোনও তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেননি। তবে পেন্টাগনের যে দফতরে কাজ করতেন এলিজোন্দো, সেই দফতরের এক দশকের নথিপত্র ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের উল্লেখ করেন।

তাঁর দাবি, এত কিছু (তথ্যপ্রমাণ) সত্ত্বেও উচ্চ পর্যায়ের টনক নড়ানো যায়নি। ভিডিওগুলো প্রকাশ করবেন বলেই তিনি পেন্টাগনের চাকরি ছেড়ে দেন। সরাসরি চিঠি লেখেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসকে। তাতে তিনি লেখেন, এর ফলে আকাশে বিমানের নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।’’

গত ডিসেম্বরে পেন্টাগনের গোপন ইউএফও ফাইল থেকে প্রকাশিত হওয়া প্রথম ভিডিওটি ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলট কমান্ডার ডেভিড ফ্র্যাভরের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার। ২০০৪ সালে অদ্ভূত একটি যানকে তিনি আকাশে ৮০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ২০ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে আসতে দেখেছিলেন।

তাঁর সেই বর্ণনার ভিত্তিতে সেই সময় ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ একটি নজরকাড়া প্রতিবেদন লিখেছিলেন সাংবাদিক এলি রোজেনবার্গ।