ভোলায় গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছে বাপেক্স; রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

0
144

ভোলার ভেদুরিয়াতে নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছে রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানী বাপেক্স। এটি দেশের ২৭তম গ্যাস ফিল্ড। সকালে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকের শুরুতে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি। বৈঠকের শুরুতেই প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান ইয়ূথ সামিটে প্রাপ্ত দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ যুবমন্ত্রীর পুরস্কারটি প্রধানমন্ত্রীর নিকট হস্থান্তর করেন যুব ও ক্রিয়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার।

পরে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম কংক্রিট ঢালাই কার্যে ব্যবহৃত কর্ণিক রাশান ফেডারেশন কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে স্মারক উপহার প্রদান করা হয়। কর্ণিকটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্থান্তর করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

উবার, পাঠাওসহ অন্যান্য ‘রাইড শেয়ারিং’ সার্ভিস পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান ও গাড়ির মালিককে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে তালিকাভুক্তি সনদ নেয়ার বিধান রেখে ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘রাইড শেয়ারিংয়ের কার্যক্রম এটা অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। উবার বা বিভিন্ন এজেন্সি কার্যক্রম চালাচ্ছে, এটাকে আইনি কাঠামোতে আনার জন্য এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।’

নীতিমালায় আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পরিচালনার জন্য বিআরটিএ’র কাছ থেকে রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এনলিস্টমেন্ট (তালিকাভুক্তির) সার্টিফিকেট (সনদ) নিতে হবে। মোটরযানের মালিকও এ সার্টিফিকেট গ্রহণ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) থাকতে হবে। আর যদি কোম্পানি হয় তবে পাবলিক-প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির যে শর্তাবলি সেগুলো মেনে চলতে হবে।’

নীতিমালা অনুযায়ী যাত্রী চাহিদা, সড়কের নেটওয়ার্কের ক্যাপাসিটি রাইডিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ইত্যাদি মিলে আওতা বিআরটিএ নির্ধারণ করবে। রাইড শেয়ারিং সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস এলাকায় অফিস থাকতে হবে বলে জানান শফিউল আলম।

কোনো প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে বিআরটিএ’র নির্ধারিত সংখ্যক মোটর মোটরযান নিয়োজিত করতে হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং কার্যক্রমের জন্য গাড়ির সংখ্যার একটা সিলিং (সীমা) দেয়া আছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ ডিটিসিএ অনুমোদিত এলাকার জন্য কমপক্ষে ১০০টি, চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য ৫০টি ও দেশের অন্যান্য মহানগর শহর এলাকার জন্য কমপক্ষে ২০টি কার বা বাহন থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় ব্যক্তিগত মোটরযান যেমন- মোটরসাইকেল, মোটরকার, জিপ, মাইক্রোবাস এবং অ্যাম্বুলেন্স অনুর্ভুক্ত হতে পারে।’

রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে ব্যবহৃত মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট হালনাগাদ থাকতে হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির সনদ পাওয়ার পর রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযানের মালিক ও চালকের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি করতে হবে। যেখানে সব পক্ষের অধিকার ও দায়-দায়িত্বের বিষয়ে উল্লেখ থাকবে। মোটরযান মালিক বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এক মাস আগে নোটিশের মাধ্যমে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।’

নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও অনুমোদিত পার্কিং স্থান ছাড়া কোনো রাইড শেয়ারিং মোটরযান যাত্রী সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যেখানে-সেখানে অপেক্ষমাণ থাকতে পারবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ নীতিমালার অধীনে একজন মোটরযান মালিক মাত্র একটি মোটরযান রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় পরিচালনার অনুমতি পাবেন জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘ব্যক্তিগত মোটরযান রেজিস্ট্রেশন গ্রহণের পর এক বছর পার না হলে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় সেবা দিতে নিয়োজিত হতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘বিআরটিএ’র ওয়েব পোর্টালে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের আওতায় সব মোটরযানের তালিকা শ্রেণিবদ্ধভাবে একটি মেন্যুতে রাখতে হবে। যাত্রীর অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়।’

শফিউল আলম বলেন, ‘নীতিমালার কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে প্রতিষ্ঠানের এনলিস্টমেন্ট সনদ বাতিল ও কার্যক্রম বন্ধ করাসহ দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’