মনোবল অটুট রয়েছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ খালেদা জিয়ার : ফখরুল

0
60

শত প্রতিকুলতার মধ্যেও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ্য আছেন। তার মনোবলও অটুট রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কারও পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য খালেদা জিয়া নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান বিএনপির মহাসচিব। বিকেলে কারাগারে বিএনপির চেয়ারপার্সনের সংঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের এ সব কথা জানান বিএনপির এই নেতা।

বুধবার বিকালে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে এই সাক্ষাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির আরও আট নেতা ছিলেন মির্জা ফখরুলের সঙ্গে।

বেলা সোয়া ৩টা থেকে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার এই সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এসে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “দেশনেত্রী সুনির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, কারো উসকানিতে পা না দিয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

গত ৮ মার্চ জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর থেকে খালেদার মুক্তির দাবিতে চার দফায় বিক্ষোভ সমাবেশে, মানববন্ধন, অবস্থান, গণঅনশন, গণস্বাক্ষর অভিযান, স্মারকলিপি পেশ, কালো পতাকা প্রদর্শনের মত কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি, যে দলটিকে ২০১৫ সালের তিন মাসের হরতাল-অবরোধে ব্যাপক নাশকতার জন্য ‘আগুন সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে আসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে তাদের রাজনৈতিক সংগ্রামও চলবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে ‘সুস্থ’ আছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি দেশবাসীকে জানাতে বলেছেন, তিনি অটুট আছেন, তার শরীর ভালো আছে। দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য তিনি যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছেন।”
বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ একটি মামলা দিয়ে তাদের নেত্রীকে কারাগারে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ‘ছলচাতুরির’ মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা এখন তার কারাবাস ‘দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা’ করছে।

তারপরও সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে- এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তার (খালেদা জিয়া) সাথে আলাপ করে আমরা এতটুকু বুঝতে পেরেছি, তার মনোবল অত্যন্ত উঁচু আছে। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিকূল পরিবেশকে মোকাবিলা করছেন। এই কারারুদ্ধ অবস্থায় তিনি দেশের জন্যই চিন্তা করছেন।”

আদালতের রায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় তার বড় ছেলে তারেক রহমানকে, যিনি গত এক দশক ধরে পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “দল এখন যৌথ নেতৃত্বে চলছে। দেশনেত্রী কারা অন্তরীণ হওয়ার পর আমরা একটা যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালনা করছি, আন্দোলন পরিচালনা করছি। আমাদের ভারপ্রাপ্ত যে চেয়ারম্যান রয়েছেন, তার সঙ্গে পরামর্শ করেই আমরা সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি।”

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। খালেদা জিয়ারএকান্ত সচিব এম বি এম আবদুস সাত্তারও ছিলেন তাদের সঙ্গে।

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার পর গত এক মাসে তার সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এটাই প্রথম সাক্ষাৎ।