মর্ডানার তৈরি করোনার টিকার শেষ ধাপের ট্রায়াল শুরু

0
179

মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি মর্ডানার তৈরি কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিবেন। এমনটাই জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা। স্বেচ্ছাসেবকদের ২৮ দিনের মধ্যে এই টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হবে। এর আগে করোনার সম্ভাব্য কোনো ভ্যাকসিন এত মানুষের দেহে পুশ হয়নি।

কোনো রোগের ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণত অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয়। চূড়ান্ত ধাপে হাজার হাজার মানুষের দেহে গণহারে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করে মূলত দেখা হয় সবার ব্যবহারের জন্য তা কার্যকর ও নিরাপদ কিনা। সফল হলেই ভ্যাকসিনটি গণমানুষের জন্য ব্যবহারের অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ।

মডার্না ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিনটির পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে দেশটির ৮৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে মডার্নার ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে বলে প্রমাণিত হয়। 

কোম্পানিটি সোমবার শেষ ধাপের পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দিয়ে বলেছে, বছর শেষেই তাদের ভ্যাকসিন সবাই ব্যবহার করতে পারবে।

অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেককে ২৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ দেওয়া হবে। বাকি অর্ধেককে দেওয়া হবে লবণপানির একটি মিশ্রণ। তবে স্বেচ্ছাসেবী বা তাদের ইনজেকশন দেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা কেউই জানবেন না কার দেহে আসলে কোনটি পুশ করা হচ্ছে। ফলাফল স্বচ্ছ রাখতেই এমন নিয়ম।

ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর বিজ্ঞানীরা নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করবেন। বিশেষ করে, যাদের দেহে ভ্যাকসিনটি দেওয়া হয়নি তারা করোনায় আক্রান্ত হন কি না—তা দেখতে চান বিজ্ঞানীরা। সেই তুলনায় ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের মাঝে এর হার কম দেখা দিলে, প্রতিষেধকটি সফল বলে প্রমাণিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজের পরিচালক অ্যান্থনি ফাউচি বলেন— এই টিকা বৈজ্ঞানিকভাবে যথাযথ। এখন তৃতীয় ধাপে দেখা হবে যে এই টিকা করোনাভাইরাসকে রুখতে পারে কিনা এবং সেটা কতোদিন স্থায়ী হয়।

এই ধাপে দেখা হবে যে মাত্র দুই ডোজ দিয়ে করোনাভাইরাসের লক্ষণ রুখতে পারা যায় কিনা। তীব্র সংক্রমণ রুখে দেওয়া যায় কিনা। ভাইরাসের কারণে যে মৃত্যুহার সেটা কমানো যায় কিনা।

তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে সফল হলে চলতি বছরের শেষের দিকে কয়েক মিলিয়ন ডোজ উৎপাদন করা হবে।