মস্তিস্ক ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে শূকর

0
73

মার্জিয়া হাসান:

মস্তিস্ক ছাড়া ৩৬ ঘণ্টা পার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে একটি শূকর। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই ঘটনাকে অভিভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কাজে লাগানো গেলে এই প্রক্রিয়ায় স্নায়ুরোগ মোকাবেলা সহজ হবে। তবে এখান থেকে মানুষ নিজেদের আয়ু বাড়ানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হলে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি একটি শূকরের মস্তিস্ক শরীর থেকে আলাদা করে বাইরে এনে পরীক্ষাগারে গবেষণা চালানো হয়। সে সময় তার মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন চালু রাখার জন্য পাম্প, হিটার এবং কৃত্রিম রক্তের ব্যবস্থা করা হয়। যার মাধ্যমে মস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে পারে বিজ্ঞানীরা।

৩৬ ঘণ্টা পর সেই মস্তিষ্ক পুনঃস্থাপন করা হয় শুয়োরটির মাথায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুনঃস্থাপিত মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন চালু করতে সমর্থ হন বিজ্ঞানীরা । এরপর বেঁচে ওঠা শূকরটি ক্রমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যায়।

গবেষণার এক পর্যায়ে তারা আবিষ্কার করেন, যে পাম্প, হিটার এবং কৃত্রিম রক্তের একটি প্রক্রিয়া নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে পারলে মস্তিষ্ক শরীরের বাইরে আনার পরেও তার কোষে রক্ত সঞ্চালন করা সম্ভব।

লেখক: মার্জিয়া হাসান

এরপর রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়া কার্যকর রেখে ঐ শূকরটির মস্তিষ্ক শরীরে বাইরে নিয়ে আসা হয়। গবেষক দলের নেতা অধ্যাপক নেনাদ সেস্টান জানিয়েছেন, তারা অন্তত ১০০টি শূকরের ওপর পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা চালিয়ে এই সফলতা পেয়েছেন।

সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্ময়কর এই ঘটনাটি ঘটেছে । গবেষকেরা বলছেন, ভবিষ্যতে মানুষের পুরো মস্তিষ্ক শরীরে বাইরে এনে পরীক্ষা করার একটি উপায় খুঁজে বের করাই ছিলো পরিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।

এই প্রক্রিয়া মানুষের ক্ষেত্রে কাজে লাগানো গেলে অনেক স্নায়বিক রোগের নিরাময় পদ্ধতি আবিষ্কারে সাহায্য করবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ যদি তার আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে নিতে চায় সেটি বৈধ হবে কিনা।