মাগুরার প্রোজেরিয়ায় আক্রান্ত ‘বৃদ্ধ শিশু’ বায়েজিদ আর নেই

0
113

গ্রামের রাজমিস্ত্রি লাভলু শিকদার ও স্ত্রী তৃপ্তী খাতুনের একমাত্র সন্তান বায়েজিদ বিকৃত চেহারা নিয়ে ভূমিষ্ঠ হলে সবাই তাকে দেখে ভয় পেত। তবে সন্তানের মায়ায় বাবা-মা তাকে পরম আদরে লালন পালন করতে থাকেন।

‘বৃদ্ধ শিশু’ বায়েজিদ আর নেই। সোমবার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বায়েজিদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল সাড়ে ৫ বছর। মাগুরায় জন্ম নেওয়া শিশু প্রোজেরিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল।

জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামে বিরল রোগ প্রোজেরিয়ায় আক্রান্ত শিশু বায়েজিদ মাত্র সাড়ে ৫ বছর বয়সে ৭০/৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধের চেহারা নিয়ে বেড়ে উঠে। মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায়ই এ বিরল রোগে আক্রান্ত হয় শিশুটি।

খালিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি লাভলু শিকদার ও স্ত্রী তৃপ্তী খাতুনের একমাত্র সন্তান বায়েজিদ বিকৃত চেহারা নিয়ে ভূমিষ্ঠ হলে সবাই তাকে দেখে ভয় পেত। তবে সন্তানের মায়ায় বাবা-মা তাকে পরম আদরে লালন পালন করতে থাকেন।

বাবা রাজমিস্ত্রি লাভলু শিকদার অর্থাভাবে একমাত্র সন্তানকে বড় কোন হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে পারেননি।

বায়েজিদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার চেহারায় বৃদ্ধ মানুষের ছাপ ক্রমেই আরো বেশি ফুটে ওঠে। বৃদ্ধদের মত মুখ পেটসহ শরীরের চামড়া ঝুঁলে যায়। চেহারায় শিশুর কোন ছাপ নেই।

তাকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে মাগুরার সিভিল সার্জন মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন এবং তাকে ঢাকা মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সে চিকিৎসায় সুস্থ হয়। গত কয়েকমাস ধরে সে অসুস্থ ছিল।

রোববার রাতে আবারও অসুস্থ হলে রাত ১২টার দিকে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে অানা হয়। অবস্থার অবণতি হলে গতকাল সোমবার ভোরে ৬টার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে ওইদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

মাগুরা সদর হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু বলেন, নানা ধরণের জেনেটিক সমস্যায় এমন হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে প্রোজেরিয়া বলে। এ রোগের চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল।