মানবতার আরেকটি উদাহরণ সৃষ্টি হলো রাজশাহীতে

0
47

একটি বেওয়ারিশ কুকুরছানা একটি নির্মাণাধীন ভবনের রিজার্ভ ট্যাংকে পড়ে আর উঠতে পারছে না। কুকুরটির প্রাণ বাঁচাতে রাজশাহী থেকে এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছেন। পরে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। প্রাণে বেঁচে গেল কুকুরছানাটি। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে নগরের মিঞাপাড়া এলাকার থেকে কুকুরছানাটিকে উদ্ধার করা হয়।

রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র স্বপ্নীল দাসের (২৫) বাড়ি রাজশাহী নগরের রানিবাজার এলাকায়। তিনি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলে তাঁর ছোট ভাই সৌরভ দাস তাঁকে কুকুরছানার পড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানান। স্বপ্নীল দাস বলেন, তিনি টর্চলাইট জ্বেলে দেখেন কুকুরটির কোনোভাবে নাক বের করে নিশ্বাস নিচ্ছে। তার শরীরের কোনো শক্তি নেই বলে মনে হচ্ছে। তিনি একটি তক্তা ফেলে দেন। তারপর বাঁশ দিয়ে তক্তাটি কুকুরছানাটির নিচে ডুবিয়ে দেন। যাতে সে তক্তার ওপরে উঠে থাকতে পারে কিন্তু কিছুক্ষণ পর নড়াচড়া করতে গিয়ে ছানাটি আবার পড়ে যায়। এরপর তার মাথায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেওয়ার চিন্তা আসে। তিনি ফোন দেওয়ার ১০ থেকে ১২ মিনিটের মাথায় ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা চলে আসে। তারা কুকুরটি উদ্ধার করে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার ফরহাদ হোসেন জানান, স্থানীয় লোকজন কুকুরটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা না পেরে জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চান। এরপর রাত আটটার কিছু আগে তারা পুলিশ সদর দপ্তরের আইসিটি ডেস্ক থেকে ফোন পান।

তাদের জানানো হয়, ট্যাংকের পানিতে পড়ে যাওয়া একটি কুকুরছানার প্রাণ বাঁচাতে তাদের ফোন করা হয়েছে। তাই কুকুরটি উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ফরহাদ হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ড ও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য তারা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে অহরহ ফোন পান। তবে কোনো প্রাণী উদ্ধারের জন্য এটিই প্রথম।

ফরহাদ হোসেন বলেন, যেকোনো প্রাণ রক্ষার অনুরোধেই তাঁরা সাড়া দেন। সম্প্রতি তাঁরা নালায় পড়ে যাওয়া গরু, আটকে থাকা বিড়াল ও বাবুই পাখি উদ্ধার করেছেন। সর্বশেষ একজন সাপ বিশেষজ্ঞের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিষধর গোখরা।