মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ফুটবলের জাদুকর

0
214

পুরো বিশ্বকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে বুধবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ছিয়াশির মহানায়ক, আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৬০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন এই ফুটবল গ্রেট। জাতীয় বীরকে শেষ নজর দেখতে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে ভক্তদের লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছিল। তবে পারিবারিক সমারোহে ম্যারাডোনাকে চিরশায়িত করা হয়েছে।

নিজ জন্মস্থান বুয়েন্স আইরেসের উপকণ্ঠে অবস্থিত বেলা ভিস্তা সমাধিস্থলে সমাহিত করা হয়েছে ম্যারাডোনাকে। যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন ম্যারাডোনার বাবা দিয়েগো ম্যারাডোনা চিতোরো এবং মা দালমা সালভাদোরা ফ্রান্সো। মা-বাবার পাশেই দাফন করা হয়েছে ম্যারাডোনার মরদেহ।

বেলা ভিস্তা সমাধিস্থলে প্রায় ২৫-৩০ জন কাছের আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতিতে ছোট পরিসরে শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়। তবে ম্যারাডোনার এই শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল বুয়েন্স আইরেসের রাস্তায়। কফিন নেওয়ার সময় কেউ অঝোরে কেঁদেছে, কেউ বা দূর থেকে চুমু দিয়েছে এবং প্রার্থনা করেছে।সঙ্গত কারণেই তাদের কাউকে বেলা ভিস্তা সমাধিস্থলের আশপাশে যেতে দেয়া হয়নি।

কফিন ঢাকা ছিল আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা ও জার্সিতে, যার পেছনে ছিল তার ট্রেডমার্ক ১০ নম্বর। জনসাধারণের জন্য ম্যারাডোনার মৃতদেহ নেওয়া হয় প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে। দুপুর গড়াতে ভক্তদের লাইন এক কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা হতে থাকে। বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ককে দেখার জন্য অনেকে জোর করে প্যালেসে ঢুকতে চাইলে বাধে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও। একসময় টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়তে বাধ্য হয় পুলিশ। ভক্তদের দাবি, এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছে পুলিশ।