মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের গণহত্যা নিয়ে দুই সেনা সদস্যের স্বীকারোক্তি

0
382

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় কাউকে দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ ছিল সেনা সদস্যদের প্রতি। এক্ষেত্রে শিশু থেকে বৃদ্ধ, কেউ যেন বাদ না যায়। সে নির্দেশও ছিল তাদের।

রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলায় মিয়ানমারের দুই সেনা সদস্য এ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশেই রাখাইন রাজ্যের বেশ কিছু রোহিঙ্গা গ্রামে তারা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এ স্বীকারোক্তির সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেনি। গত মাসে ওই দুই সেনা সদস্য মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যান। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর তাদের নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে নেওয়া হয়। এ শহরেই জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অবস্থিত।

ওই দুই সেনা সদস্যকে গ্রেফতার দেখানো না হলেও তাদের এ আদালতের হেফাজতে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মামলায় তাদের সাক্ষী করা হবে। আবার অপরাধী হিসেবে তাদের বিচারও করা হতে পারে। মিয়ানমারের সাবেক ওই দুই সেনা সদস্য স্বীকার করেছেন, রোহিঙ্গা গণহত্যা, হত্যার পর গণকবর দেওয়া, রোহিঙ্গা গ্রামগুলোয় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং ধর্ষণের যেসব অভিযোগ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উঠেছে তার সবই সত্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিও উইন তুন ও জো নাইং তুন নামে দুই সেনা সদস্য এ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তির ভিডিওচিত্রে মিও উইন তুন বলেছেন, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনের একটি রোহিঙ্গা গ্রামে তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ ছিল যা দেখবে, যা শুনবে সবকিছুতেই গুলি কর।

মিও উইন তুন জানান, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ তিনি পালন করেছিলেন। ওইসময় তিনি ৩০ জন রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যায় অংশ নিয়েছিলেন। হত্যার পর সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি এক গণকবরে তাদের মাটি চাপা দেওয়া হয়।

ঠিক একই সময়ে পাশের আরেকটি উপ-শহরে জো নাইং তুন নামে আরেক সেনা সদস্য একই কাজ করছিলেন। তিনিও পেয়েছিলেন একই ধরনের নির্দেশনা। জো নাইং তুন জানান, তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা ছিল শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক যাকেই দেখবে, মেরে ফেলবে।

২০১৭ সালে চরম নির্যাতন ও গণহত্যার শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এতদিন ধরে এই নির্যাতনের পরিস্থিতিগত তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ করা হতো। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো দুই জন মিয়ানমার সৈনিক, যারা সরাসরি এই নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) স্বীকারোক্তি দিলো। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যা বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হলো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।