দেশটিতে কোন ধর্মীয় বৈষম্য নেই : পোপকে জানালেন মিয়ানমারে সেনাপ্রধান

0
70

দেশটিতে কোন ধর্মীয় বৈষম্য নেই, জানালেন জেনারেল মিন অং হ্লাং…
মিয়ানমারের ক্ষমতাধর সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। সোমবার বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে সফরে এসে পোপ প্রথমেই সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাংয়ের সঙ্গে ইয়াঙ্গুনে আর্চবিশপের বাসভবনে একান্তে বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে ভ্যাটিকানের মুখপাত্র গ্রেগ বার্ক বলেন, দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাং পোপকে বলেন মিয়ানমারে কোন ধর্মীয় বৈষম্য নেই। দেশের সামরিক বাহিনী শান্তি ও স্থীতিশীলতার জন্য কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের নৃতাত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও কোন বৈষম্য নেই। আজ মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে পোপের।

মিয়ানমার সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সোমবার মিয়ানমারে সফরকালে ইয়াঙ্গুনের আর্চবিশপের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী ছিল।

সফরে পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমারের বেসামরিক নেতা নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। চার দিনের মিয়ানমার সফর শেষ করে ৩০ নভেম্বর ঢাকায় পৌঁছবেন পোপ ফ্রান্সিস।

সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে তিন দিনের সফরে তিনি রোহিঙ্গাদের কথাও শুনবেন। রোহিঙ্গাদের একটি দলকে তার সঙ্গে কথা বলতে ঢাকায় নিয়ে আসা হতে পারে। এছাড়া পোপ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দেবেন।

পোপ ফ্রান্সিসের আসন্ন সফর নিয়ে গতকাল কাকরাইলে আর্চবিশপ হাউসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্যাথলিক বিশপ সম্মিলনীর প্রেসিডেন্ট কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেছেন, পোপ ফ্রান্সিসের সফরের দুটি দিক রয়েছে— ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার সফর রাষ্ট্রীয়, আবার ক্যাথলিক চার্চের প্রধান ধর্মগুরু ও সর্বপ্রধান ধর্মপাল হিসেবে তার সফর হবে ধর্মীয় বা পালকীয়।

পোপ এ দেশের জনগণের জীবন-বাস্তবতার আলোকে অনেক সুন্দর ও মঙ্গলজনক দিক তুলে ধরবেন। পাশাপাশি দেশের যুব ও ছাত্রসমাজকে নতুন স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ করবেন। মানবতা, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য পরামর্শ দেবেন, উৎসাহিত করবেন, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ঘোষণা করবেন।

শনিবার বিকাল ৫টার দিকে পোপ রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।