মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিকন্যা কাকন বিবি আর নেই, প্রধানমন্ত্রীর শোক

0
55

মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিকন্যা কাকন বিবি বীর প্রতীক ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন। গতরাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর।

১৯৭১ সালে অনন্য সাহসের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি বীর প্রতীক আর নেই। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত সোমবার সন্ধ্যায় নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট, ফুসফুস সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি কেবিনে ভর্তি হন কাকন বিবি।

বুধবার রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতালের উপ পরিচালক ড. সুব্রত দেব জানান, গত জুলাই মাসে ব্রেইনস্ট্রোকের পর হাসপাতালে ভর্তি হন কাকন বিবি। তখন থেকেই দ্রুত স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে তার।

আজ বিকেল ৪টায় গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জেরর দোয়ারা বাজার উপজেলায় নামাজে জানাযা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এরপর ছাড়পত্র পেলেও গত সোমবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। অবশেষে গতকাল রাত সোয়া ১১টার দিকে মারা যান একাত্তরে সম্মুখ সমরে লড়াই করা এ বীর নারী।

কাকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি ভারতের খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশের এক গ্রামে।

১৯৭০ সালে দিরাই উপজেলার শহীদ আলীর সঙ্গে কাকনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তার পরিবর্তিত নাম হয় নুরজাহান বেগম। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ঝিরাগাঁও গ্রামে।

কাকন বিবি তিন দিনের কন্যাসন্তান সখিনাকে রেখে যুদ্ধে চলে যান। তিনি বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্তচরও। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিপক্ষে মুক্তিবাহিনীর হয়ে শুধু গুপ্তচর হিসেবেই কাজ করেননি, করেছেন সম্মুখযুদ্ধও।

প্রায় ২০টি যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে তাকে বীরপ্রতীক খেতাব দেওয়া হয়।