মুঠো মুঠো ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ডেকে আনতে পারে বিপদ

0
281

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই স্রেফ কিছু ধারণার বসে ইদানীং ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করেছেন অনেকে।

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এর পরিণতি উদ্বেগজনক। পেট ব্যথা, বমি ভাব, অবসাদ এমনকী ঝুঁকি বাড়ে হার্টের অসুখেরও। পুরুষদের ক্ষেত্রে বাড়তে পারে প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা। এক নজরে দেখে নিন এর ক্ষতিকর দিকগুলি কী কী।

পেশি ব্যথা:

রক্তে মিশে থাকা ক্যালসিয়াম স্নায়ুতে সঙ্কেত পাঠানো, হরমোনের ক্ষরণ ও মাংসপেশির সঙ্কোচন-প্রসারণে সাহায্য করে।

হাড় এবং দাঁত সুস্থ রাখতেও প্রয়োজন ক্যালসিয়াম। কিন্তু অধিক মাত্রায় ক্যালসিয়াম পেশির সঙ্কোচনে বাধা দেয়, ফলে শরীরের নানা জায়গায় ব্যথা হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য:

শরীরে আয়রন, জিঙ্ক এবং ম্যাগনেসিয়ামের মিশে যাওয়া নিয়ন্ত্রিত করে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট।

ফলে অনাবশ্যক পেট ব্যথা, বমি ভাব দেখা দেয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা বাড়ে।

 

কিডনিতে পাথর:

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা, হাড়ের ঘনত্ব ইত্যাদি দেখেই ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইচ্ছামতো সাপ্লিমেন্ট খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শরীরে নানা জায়গায় ক্যালসিয়াম জমে ডেকে আনে বিপদ। কিডনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়ায়।

 

মানসিক অবসাদ:

ত্রিশ ছুঁয়েছেন, শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি নেই এমন অনেক মহিলাই শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনে মজে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নেওয়া শুরু করেন।

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, মুঠো মুঠো সাপ্লিমেন্ট নেন এমন মহিলা ও পুরুষদের মানসিক অবসাদ এবং উদ্বেগের প্রবণতা অনেক বেশি।

ভিটামিন ডি টক্সিসিটি:

ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে অনেকে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও নিয়ে থাকেন। দু’টোই একসঙ্গে খাওয়ার ফলে রক্তে অধিক মাত্রায় ক্যালসিয়াম জমা হয়।

ফলে, খিদে কম, বমি ভাব এবং শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়।

 

অন্যান্য ওষুধের কার্যকারিতা নাশ:

অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট হাইপার ক্যালসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যান্য ট্যাবলেট এবং সাপ্লিমেন্টের কার্যকরিতা কমিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে কেউ যদি নিয়মিত হার্টের অসুখের ট্যাবলেট বা আয়রন ট্যাবলেট খেতে শুরু করেন, তা হলে হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে।