আতিকুর রহমান তিতাস:

বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ফেব্রয়ারি এলে সবাই বইমেলায় ভীড় করলেও, মেলার ইতিহাস অনেকেরই অজানা।

কিভাবে শুরু হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা, মেলায় কয়টি নতুন বই ছিলো, এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই সাজানো হয়েছে এবারের আয়োজন।

মুদ্রিত বইয়ের ইতিহাস খুব দীর্ঘদিনের নয়। ১৪৪০-৫০ সালে জার্মানিতে যখন জোহানেস গুটেনবার্গ টাইপ বা অক্ষর উদ্ভাবন করলেন, তখন থেকেই শুরু হলো মুদ্রিত বইয়ের অস্তিত্ব।

এর আগে বই হিসেবে যা প্রচলিত ছিল তা হলো তালপাতা, চামড়া, কাপড় ও কাগজে লেখা পান্ডুলিপি।

বইমেলার ইতিহাস অনুসন্ধান করলেও দেখা যায়, ইউরোপের ফ্রান্স, গ্রিস, বলগ্না, লিঁও, প্যারিস ও ফ্রাঙ্কফুর্টে বইমেলা খুবই প্রাচীন।

তবে বইয়ের কেন্দ্র হিসেবে প্রাচীন মিসর, চীন আর ভারতের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। এই সব দেশে বই প্রকাশ, কাগজ উৎপাদনের ইতিহাস খুব প্রাচীন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বইকে দেখা হয় অর্থনৈতিক উপাদান হিসেবে। ফ্রাঙ্কফুর্ট বা লিপজিগ প্যারিস অথবা লন্ডনে বইমেলা ছাড়াও জেরুজালেম, টোকিও, সিডনি, ম্যানিলা, বুয়েনস এইরেস, নতুন দিল্লি বা কলকাতায়ও বসে বইয়ের মেলা।

তবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা আমাদের কাছে ব্যাপকভাবে একুশে বইমেলা নামেই পরিচিত। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম এই মেলার ইতিহাস স্বাধীন বাংলাদেশের মতোই প্রাচীন।

১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শ্রী চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউসের সামনের বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার শুরু করেন।

এই ৩২টি বই ছিলো চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থানকারী বাংলাদেশি শরণার্থী লেখকদের লেখা বই।

১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমী মহান একুশে মেলা উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ হ্রাসকৃত মূল্যে বই বিক্রয় হতো।

অমর একুশে উপলক্ষে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বইমেলা অনুষ্ঠিত হতো। মেলার তখন নাম ছিলো একুশে গ্রন্থমেলা।

১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমীর তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমীকে মেলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন।

বিশ্লেষক: আতিকুর রহমান তিতাস

১৯৮১ সালের একুশে বইমেলার মেয়াদ কমিয়ে ২১ দিনের পরিবর্তে ১৪ দিন করা হয়। কিন্তু প্রকাশকদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালে মেলার মেয়াদ পুনরায় বৃদ্ধি করে করা হয় ২১ দিন।

১৯৮৪ সাল থেকে মেলার নতুন নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ যা, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাঙালির প্রাণের মেলা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

বই হোক আনন্দের সঙ্গি,বই হোক বেদনার সাথি, প্রযুক্তির কঠোর বেড়াজাল ভেঙে সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ জেগে উঠুক বইমেলাকে কেন্দ্র করে। নতুন প্রজন্ম অনুভব করুক বইয়ের প্রতিটি অক্ষরের স্পর্শিত মর্ম।