যে কারণে কোনও খাবারই নীল রঙের হয় না

0
74

চিবিয়ে খান, চেটে খান। চুষে খান, গিলে খান। যেমন খাবারই খান, ভেবে দেখেছেন কখনও, নীল রঙের কোনও খাবার আপনি কখনও খাননি! না, খাননি। শুধু আপনি বলেই নন, পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই খাননি।

কারণ, নীল রঙের কোনও প্রাকৃতিক খাবার হয় না বললেই চলে। আমরা যে বেগুন খাই, তার রং নীল নয়, বেগুনি। ফলসা কিংবা জামের মতো ফলের রংও নীল নয় মোটেই।

বিদেশেও ব্লু-বেরির মতো একটি-দুটি খাবার বাদে স্বাভাবিক নিয়মে তৈরি নীল রঙের কোনও খাদ্যোপযোগী বস্তু পাওয়া যায় না। কিন্তু কেন? লাল, হলুদ, গেরুয়া, সবুজ, সাদা, কালো— প্রায় রাজনৈতিক পার্টির মতোই এত রঙের খাবার হয়, নীল খাবার হয় না কেন?

একদিকে হিন্দু শাস্ত্র মতে যদি দেখা যায়, তাহলে বিষের রং নীল। যে বিষ ধারণ করে নীলকণ্ঠ হন দেবাদিদেব মহাদেব। সর্পাঘাতে লখিন্দরের দেহ হয়ে যায় ‘বিষে নীল’। সহজলভ্য বিষ তুঁতের রংও নীল। এভাবেই সামাজিক বিশ্বাসে নীল রং হয়ে গিয়েছে বিষের সমার্থক।

অন্যদিকে বিজ্ঞানের জটিল তত্ত্ব বলছে, এর নেপথ্যে রয়েছে অভিযোজনের কারণ। গাছের খাদ্য তৈরি করা, অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষের জন্য অন্যতম আদর্শ হল নীল আলো। কাজেই দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোজিত হয়ে গাছের ভেতরে থাকা রঞ্জক নীল আলো শোষণ করে নেয় সর্বাধিক।

একই সঙ্গে, গাছে নীল রং আসে যে ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ রঞ্জকের থেকে, সালোকসংশ্লেষে তার ভূমিকা সবচেয়ে কম। কাজেই অভিযোজনের ফলে সেই রঞ্জকের উপস্থিতিও পৃথিবীর উদ্ভিদকুলের মধ্যে ক্রমশ কমেছে। সে কারণেই শুধু ফল নয়, নীল ফুলও এত কম।

এমনকী, প্রাণীর দেহে নীলের ছোঁয়াও অত্যন্ত কম। সারা পৃথিবীতে যেটুকু খাবার নীল রঙের দেখা যায়, তাও প্রধানত কৃত্রিম খাবার। বানানো। প্রাকৃতিক নিয়মে সৃষ্টি হওয়া নয়। তাই আপনার লাঞ্চ-ডিনারেও নীল খাবার থাকার চান্স ‘Nil’ বললেই চলে।