যে কারণে সিঙারা ও সমুসা তিনকোণা

0
97

ঝমঝমে বৃষ্টির দিনে আড্ডার সময় সিঙাড়া? আহা! আবার শীতের কুয়াশামাখা দিনেও ফুলকপির তরকারির পুরে ঠাসা শিঙাড়া, সেও রীতিমতো অনতিক্রম্য ব্যাপার। যদিও এহেন সিঙাড়া কিন্তু বাঙালি তথা ভারতীয় উপমহাদেশের সৃষ্টি নয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, ইরান থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশে আসে সিঙাড়া বা সমুসা। যদিও শিঙাড়া ও সমুসা একেবারে এক জিনিস নয়, তবুও আপাতভাবে তো আসলে একই। তবে কোনও দিন ভেবে দেখেছেন কি, স্ন্যাকসের ‘হল অফ ফেম’-এ ঢুকে পড়া সিঙাড়া কেন তিনকোনাই হল?

সিঙাড়ার আকারের প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আর একবার ছুঁয়ে আসা যাক তার জন্ম বৃত্তান্তকে। ইরানি ইতিহাসবিদ আবলফজল বেহাকি তাঁর ‘তারিখ-এ-বেহাগি’ বইয়ে উল্লেখ করেছিলেন এক স্ন্যাক্সের, যার নাম ‘সাম্বোসা’। বোঝাই যায় এই ‘সাম্বোসা’ই আমাদের সান্ধ্য পাত আলো করা সিঙাড়ার আদি রূপ।

তবে দ্বাদশ শতাব্দী থেকেই মোটামুটি ভারতের মাটিতে পরিচিত নাম সিঙাড়াও। আমির খসরুর রচনায় উল্লেখ মেলে সিঙাড়ার। সুতরাং, বোঝাই যাচ্ছে সিঙাড়া নেহাত আজকের খাবার নয়। তবে এতগুলো শতক পেরিয়ে এসেও সিঙাড়ার আকার বদলায়নি। শুরু থেকেই সিঙাড়া তিনকোনা— ইতিহাস তেমনই সাক্ষ্য দেয়।

কী কারণে তিনকোনা হল, তার কোনও নির্দিষ্ট উত্তর অবশ্য নেই। গুগল করলে দেখা যাবে, এ প্রশ্ন অনেকেরই মাথায় এসেছে, কিন্তু ভুবনজয়ী গুগলও হাত তুলে নিয়েছে একরকম বলা চলে। তবে ‘ইয়াহু’-তে এই প্রশ্ন ভেসে আসার পরে কেউ কেউ এমন উত্তর দিয়েছেন, যা সত্যিই ভাবনার উদ্রেক করে। একজন লিখেছেন— আটা বা ময়দার তৈরি সিঙাড়ার শরীরে তরকারির পুর ভরা হয়। এক্ষেত্রে গোল বা চৌকা আকার না হয়ে ত্রিকোণাকার হওয়াই স্বাভাবিক।

সেই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে অন্য একজন লিখেছেন— কেবল বেসনে ভাজাই হয় না সিঙাড়াকে। তার মধ্যে পুরও ভরা হয়। ফলে ওই আকৃতি লাভ করে। গোল, চৌকা বা ডিম্বাকৃতি আকার নয়, তিনকোনা আকার হওয়াই তাই স্বাভাবিক।

একজন আবার লিখেছেন— সিঙাড়া যখন তৈরি হয়, তখন ওরকম আকারের কোনও স্ন্যাক্স ছিল না, তাই ওরকম আকার দেওয়া হয়েছিল।

তবে সবচেয়ে মজার উত্তর দিয়েছেন অন্য একজন। তিনি পালটা প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছেন— এই প্রশ্নটা এমন, যেন জানতে চাওয়া হচ্ছে রুটি কেন গোল? আপনি অন্য আকারের বানিয়েই দেখুন না, শাশুড়ি কেমন কথা শোনায়।