যে রেস্তোরাঁয় বানরই ওয়েটার, এগিয়ে দেয় খাবার

0
63

মরিয়ম জাহান:

বানরের নানান কাহিনীর কথা আমরা সিনেমায় দেখি ও গল্পে পড়ি। এবার সেই বানরই খোদ রেস্তোরাঁয় খাবার এগিয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে ‍সূর্যদয়ের দেশ জাপানে।

জাপানের এক নাম করা রেস্তোরাঁর নাম কায়াবুকি টাভার্ন। বাইরে থেকে দেখতে আর পাঁচটা রেস্তোরাঁর মতো হলেও আসল মজাটা ভেতরে। কোনও ওয়েটার ছাড়াই না ওয়েটার ছাড়া বললে ভুল হবে।

ওয়েটার আছে কিন্তু কোনও পুরুষ বা নারী নয়, আছে তিনটি বানর। হ্যাঁ এই তিন বানরই অতিথিদের অর্ডার সার্ভ করে। বিশ্বাস না হলে ডেকে দেখবেন। ফুকু চ্যান নাম ধরে ডাকলেই হাজির হবে একজন

আপনার পছন্দের অর্ডার করা ডিস বা বিয়ার নিয়ে হাজির হবে তারা। কোনও পারিশ্রমিক ছাড়াই তারা কাজ করে। তিন বেলা কলা দিলেই তারা সন্তুষ্ট। মূলত এই বানর ওয়েটারের জন্য এই রেস্তোরাঁয় ভিড় করে বিভিন্ন দেশ বিদেশের পর্যটকরা।

যাদের এই রেস্তোরাঁ সম্বন্ধে কোনও আইডিয়া নেই বা যারা প্রথমবার যান, তাঁরা রেস্তোরাঁয় বানর দেখে একটু অবাক হয়ে যান। প্রথমবার হকচকিয়ে যান অনেকেই। ব্যাপারটা কী?

রেস্তোরাঁর প্রধান আকর্ষণ এই ওয়েটার ফুকু চ্যান। মাত্র তিন বছর বয়সে এই রেস্তোরাঁর মালিক ইয়াক চ্যান তাকে নিয়ে আসেন। তিনি লক্ষ্য করেন, তিনি যা করছেন বানরটিও তাঁকে নকল করে সেটাই করছে, এখছে সব খুঁটিনাটি বিষয়।

তারপর তিনি ঠিক করেন এই বানরকে দিয়েই কাজ করাবেন। এরপর থেকে অর্ডারের সব জিনিস সবার কাছে পৌঁছে দিতে থাকে এই বানর।

শুধু ওয়েটারের কাজ নয়, এই ফুকু চ্যান মাঝে মাঝে বলের ওপর ব্যালান্স করা, লং জাম্প রনপায়ে হেঁটে খেলাও দেখায়। রেস্তোরাঁয় খেতে আসা লোকজন তাদের সঙ্গে ফটো তোলাটা কেউ মিস করে না।

মালিক ইয়াক চ্যানের কাছে এই বানরগুলো তাঁর ফ্যমিলি মেম্বারের মতো। খাওয়া ঘুম সবটাই তাদের সঙ্গে। ইয়াক চ্যানের কথায় এই বানরগুলো তাঁর কাছে খুবই প্রিয় এবং তাদের ছাড়া কিছু ভাবতে পারেন না। তিনি আদর করে বলেন, “ দে আর সো সো সো কিউট।”