যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটির নামই শোনেননি অনেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভিডিও)

0
170

শারমিন আজাদ : সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটি করার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই।

বিশেষ করে স্কুলগুলোতে ওই কমিটির কোন নামই শোনেননি বেশিরভাগ বিদ্যালয় প্রধান। স্কুল কমিটির মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির বিচার করা হয় বলে জানায় রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

২০০৮ সালের ৭ আগস্ট কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য দিকনির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছিল। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালের ১৪ মে রায়ের পাশাপাশি কেন নতুন আইন বা বিধিমালা প্রণয়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানাতে সরকারের প্রতি রুল জারি করেছিলেন।

আদালতের নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে একজন নারীকে প্রধান করে দুই বছর মেয়াদী যৌন নিপীড়নবিরোধী পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। তবে এর কোনো বাস্তবায়ন নেই।

রায়ে আরো বলা হয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে অভিযোগ কেন্দ্র থাকবে। তদন্তকারী দলকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। কমিটি যৌন হয়রানির কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে পুলিশের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাঠাবে। পরে বিচার বিভাগ যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেবে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, কমিটি নির্যাতন সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং পুুলিশের কাছে অপরাধীকে না পাঠানো পর্যন্ত নির্যাতিত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না।

যৌন হয়রানি বা নিপীড়নের সংজ্ঞায় আদালত বলেছিলেন, শারীরিক ও মানসিক যেকোনো ধরনের নির্যাতন যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। ই-মেইল, এসএমএস, টেলিফোনে বিড়ম্বনা, পর্নোগ্রাফি, অশালীন উক্তিসহ কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সুন্দরী বলাও যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। এ ছাড়া কোনো নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, যেকোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করা, অশালীন চিত্র, দেয়াল লিখন ও আপত্তিকর কোনো কিছু করা যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে।

আদালতের নির্দেশনা মেনে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমিটি করেনি। এতদিন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলেও গত বৃহস্পতিবার ওই কমিটি গঠনে নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।