তাদের ওপর রাগ নেই, কেউ ভুল বুঝিয়েছে : জাফর ইকবাল

0
57

১১ দিন ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসা শেষে বেলা ১ টায় সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে  যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে বরণ করে নেন। ড. জাফর ইকবাল বলেন, ব্যক্তিগতভাবে হামলাকারি ফয়জুরের উপর তার কোন কোনো রাগ নেই, যারা ফয়জুরকে এ পথে এনেছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে।

গত ৩রা মার্চ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ড. জাফর ইকবালের উপর হামলা চালায় ফয়জুর।

জাফর ইকবাল আরো বলেন, হামলাকারীর ওপর কোনো রাগ নেই, বরং তাদের মত তরুণদের জন্য তিনি দুঃখ অনুভব করেন। তাদের কেউ ভুল বুঝিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

“তাদের ওপর আমার কোনো রাগ নাই। আমি তাদের জন্য এক ধরনের দুঃখ অনুভব করি। এত সুন্দর পৃথিবী। সেখানে এত সুন্দর সুন্দর কাজ করা সম্ভব। তারা সেগুলো না করে এই ধরনের একটা কাজকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে নিয়েছে, সেজন্য তাদের প্রতি আমি দুঃখ অনুভব করি।”

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তরুণরা ভুল পথে না যায়, তারা যেন সাধারণ মানুষে মত সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে।

গত ৩ মার্চ বিকালে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠান চলাকালে ফয়জুল হাসান ওরফে শফিকুর নামের এক তরুণ ছুরি হাতে জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায়।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণ বলেন, জাফর ইকবাল ‘ইসলামের শত্রু’ বলে সে মনে করে, এ কারণেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি হামলা করেন।

রক্তাক্ত অধ্যাপক জাফর ইকবালকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে রাতেই তাকে পাঠানো হয় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।

সিলেটে ফেরার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, এখন তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন।

“আমার শারীরিক অবস্থা ভাল। আমার মাথায় চারটি আঘাত ছিল। এ কারণে ছেলেমানুষের মত টুপি পড়ে এসেছি, যাতে ওগুলো দেখা না যায়। সেগুলোর স্টিচ খুলে দেওয়া হয়েছে। ডাক্তার এখন রেস্ট করতে বলেছেন”।

তবে পিঠ ও হাতে স্টিচ এখনো খোলা হয়নি। সেগুলো ১৮ মার্চ খোলা হতে পারে বলে জানান তিনি।

ওই হামলার পর সবাই যেভাবে সহযোগিতা করেছে, চিকিৎসকরা যেভাবে যত্ন নিয়েছেন, সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, সবার মাঝে ফিরে আসতে পেরে তার খুব ভালো লাগবে।
“একটা কথা না বললেই না, আমি কে? আমি একটা ইউনিভার্সিটির মাস্টার, বাচ্চা কাচ্চার জন্য বই লিখি, তাই তো? কিন্তু আমাদের প্রাইম মিনিস্টার, উনি নিজে আমাকে ওখান থেকে হেলিকপ্টারে নিয়ে এসেছেন। উনি এত ব্যস্ত, তারপরও নিজে এসে আমাকে দেখে গিয়েছেন। কেউ যেন আসতে না পারে, আমার যেন ইনফেকশন না হয়, সেজন্য নিজে থেকে উনি সেটা বলে গিয়েছেন।

“আমি কী বলব! আমি উনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই, আমি ডাক্তারদের কৃতজ্ঞতা জানাই, আমি দেশের মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানাই।”

এই শিক্ষক জানান, যে মুক্তমঞ্চে তার ওপর হামলা হয়েছিল, সিলেটের ক্যাম্পাসে ফিরে সেই মুক্তমঞ্চেই তিনি ছাত্রছাত্রীদের সামনে আসবেন।

“আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো ভয় পাইনি, এখনো পাচ্ছি না। ইউনিভার্সিটিতে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে আছে। আমি মুক্তমঞ্চে সেই যায়গায় দাঁড়িয়ে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আবার কথা বলব।”

জাফর ইকবাল জানান, ওই হামলার কারণে তিনি ভীত নন। ওই ঘটনায় দেশে প্রগতিশীলতার ওপর আঘাত এসেছে বলেও তিনি মনে করেন না।

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের দেশটা খুব সুন্দর, খুব সুইট। তোমরা দেশকে ভালবাসো, দেশও তোমাদের ভালবাসবে”।

জাফর ইকবাল ঢাকা ফিরবেন বৃহস্পতিবার

সিলেট প্রতিনিধি জানান, প্রিয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে বৃহস্পতিবার জাফর ইকবাল আবার ঢাকা ফিরবেন বলে তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক জানিয়েছেন।

বুধবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে জাফর ইকবাল ও ইয়াসমিন হক সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছেন।

বিমানবন্দরে নেমে তারা দুজনই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

দেশের প্রচলিত আইনে হামলাকারীর বিচার হবে জানিয়ে এ ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাফর ইকবাল জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে যেখানে তার উপর হামলা হয়েছিল বুধবার বিকাল ৪টায় সেখানে তিনি বক্তব্য রাখবেন। তিনি প্রিয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে সিলেট এসেছেন।

এ সময় ইয়াসমিন হক বলেন, “তাকে একমাস বেড রেস্টে থাকতে বলেছেন ডাক্তাররা। তবে এক সপ্তাহ থাকতে হবে পুরো বেড রেস্টে। তিনি সিলেট এসেছেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে। আগামী কালই আবার ঢাকা ফিরে যাবেন।”