রাতে ঢাকার আবাসিক এলাকায় হর্ন বাজানোয় নিষেধাজ্ঞা

0
79

ঢাকার আবাসিক ও ভিআইপি এলাকায় রাত ১০টার পর সব ধরনের যানবাহনের হর্ন বাজানো এবং ২০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া স্কুল, কলেজ, হাসপাতালের পাশ দিয়ে চলার সময় হর্ন বাজানোও নিষিদ্ধ ও হাইড্রোলিক হর্ন উৎপাদন বন্ধেরও নির্দেশনা এসেছে হাই কোর্টের এই আদেশে।

হাই কোর্টের দেওয়া আগের একটি আদেশের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ পরে সাংবাদিকদের বলেন, হর্ন বাজানো ও গতি নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন বন্ধের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করছেন,তাদের জন্য এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ মহা পরিদর্শককে।

আদালতের এই নির্দেশনা পালনে ঢাকার কাকরাইল-মগবাজার হয়ে ময়মনসিংহ রোড এবং শাহবাগ-সায়েন্স ল্যাবেরেটরি হয়ে গাবতলী রোডে সার্ভিলেন্স টিম (তদারক দল) গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি আবার শুনানিতে আসবে।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট এই রিট আবেদনের শুনানি করে রুল দেয় হাইকোর্ট। হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং সারা দেশে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।

স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজিপি, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি, ডিএমপি কমিশনার, ট্রাফিকের যুগ্ম কমিশনার, বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান, ঢাকার ট্রাফিকের চার ডিসিসহ ২০ জন বিবাদীর কাছে রুলের জবাব চেয়েছে হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করা, ২৭ অগাস্টের পরও কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন থাকলে সে গাড়ি জব্দ করা এবং হাইড্রোলিক হর্নের আমদানি বন্ধ এবং বাজারে যেসব হর্ন রয়েছে, তা জব্দের নির্দেশ দেয় হাই কোর্টের এই বেঞ্চ।

ওই আদেশে হাই কোর্ট দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইড্রোলিক হর্নের আমদানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধের আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছিল।

এর প্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিল করে ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) সংশ্লিষ্টরা।

ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশেই হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

সেইসঙ্গে ১৯৯৭ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ বিধি এবং ২০০৬ সালের শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধি অনুসারে নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ এবং শব্দ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়।