রাশিয়ার তৈরি করোনার প্রথম টিকা প্রয়োগ করা হলো প্রেসিডেন্টের কন্যার শরীরে

0
1009

বহুল প্রতিক্ষিত করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। টিকাটি যৌথভাবে তৈরি করেছে দেশটির গামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। 

দেশটির সরকারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে পুতিন বলেন, তাঁর দেশই প্রথম করোনার টিকা তৈরি করেছে। মঙ্গলবার পুতিন করোনার টিকা সম্পর্কে বলেন, রাশিয়া যে টিকা তৈরি করেছে, তা স্থায়ী বা টেকসই প্রতিরোধী সক্ষমতা দেখাতে সক্ষম।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রাশিয়ায় মন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও সম্মেলনে পুতিন টিকার তথ্য জানান। ওই ভিডিও সম্মেলন টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। 

ভিডিও সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আজকের সকালে বিশ্বে প্রথম নতুন করোনাভাইরাসের জন্য প্রথম টিকা নিবন্ধন করা হলো।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে ছয়টি সম্ভাব্য টিকা মানবপরীক্ষার তৃতীয় ধাপে রয়েছে। এর মধ্যে দুটি টিকা রাশিয়ার।

রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে স্পুটনিক নিউজ সম্প্রতি জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে থাকা ভ্যাকসিনটি ১২ আগস্টের মধ্যে অনুমোদন পাবে।

এবার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানালেন, মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তারা ভ্যাকসিনটির ব্যাপারে সবুজ সংকেত পেয়ে গেছেন। এখন তারা গণহারে এটির উৎপাদন শুরু করবেন।

তিনি বলেন, তার নিজের মেয়ে ইতোমধ্যে রুশ বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনার এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। পুতিন বলেন, ভ্যাকসিন নেয়ার পর তার মেয়ের শরীরের তাপমাত্রা হালকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু দ্রুতই তা কমে যায়।

‌‘আজকের সকালে বিশ্বে নভেল করোনাভাইরাসের প্রথম টিকা নিবন্ধন করা হলো। আমার এক মেয়ে ভ্যাকসিনটি নিয়েছে। এদিক থেকে তিনি ভ্যাকসিনের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তার শরীরের তাপমাত্রা ৩৮ হয়েছিল, পরদিন ৩৭। এতটুকুই।’

স্পুতনিক নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওষুধের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার সময় সংক্ষিপ্ত করার আদেশ দেন। এর মধ্যে করোনার টিকার পরীক্ষার বিষয়টিও ছিল। শুরুতে গত ১৭ জুন টিকাটি ৭৬ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর প্রাথমিক পরীক্ষা হয়। তাঁদের মধ্যে অর্ধেককে তরল টিকা ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করা হয় আর বাকি অর্ধেককে দ্রবণীয় পাউডার হিসেবে টিকাটি দেওয়া হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে প্রতিরোধী সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এ টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

গত মঙ্গলবার অবশ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে রাশিয়াকে টিকা তৈরিতে সব ধরনের নীতিমালা মানার আহ্বান জানানো হয়। মস্কো দ্রুত টিকা তৈরির পরিকল্পনা জানানোর পর এর নিরাপত্তা কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিস্টিয়ান লিন্ডমেয়ার জেনেভায় জাতিসংঘের এক আয়োজনে বলেছেন, প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা ও চর্চা আছে। টিকা খুঁজে পাওয়া বা টিকা কীভাবে কাজ করে, তা জানা ও টিকা তৈরির সব কটি ধাপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরে জনগণের বড় অংশের মধ্যে টিকা প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। দেশটির সরকার এমন তথ্য জানিয়েছে। রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ডেনিস মানতুরভ দেশটির তাস সংবাদ সংস্থাকে জানান, ২০২১ সালের মধ্যে প্রতি মাসে তাঁরা কয়েক লাখ টিকার ডোজ তৈরি করবেন বলে আশা করছেন।