রায়ের সার্টিফাইড কপি পেলে হাইকোর্টে আপিল করা হবে; জানালেন বিএনপি নেতারা

0
186

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দলীয় চেয়ারপার্সনকে সাজা দেয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। রায়ের সার্টিফাইড কপি পেলে হাইকোর্টে আপলি করা হবে বলেও জানান দলের নেতারা।

বিকেলে পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে তাৎক্ষনিক এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামীকাল ও শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনবিচ্ছিন্ন, অনৈতিক সরকার রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য মিথ্যা মামলা-নথি তৈরি করে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে। এ রায় দেশের জনগণ কোনো দিন গ্রহণ করবে না। আমরা অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে এ রায় প্রত্যাখ্যান করছি।’

রায়ের প্রতিবাদে কাল শুক্রবার নামাজের পর সারা দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। দলের প্রতি খালেদা জিয়ার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সহিংস এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, শুধু রাজনৈতিকভাবে খালেদা জিয়াকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য ও আগামী জাতীয় নির্বাচন থেকে তাঁকে দূরে রাখার জন্য এই রায়। একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করার জন্য যে নীলনকশা, তা বাস্তবায়নের জন্যই এই সাজার রায় দেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই রায় বর্তমান রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে; বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা চলে যাবে। তিনি বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে এই সরকার দেশে যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে রেখেছে। সরকার দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করেছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করেছে।

গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, আজ খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নেতা-কর্মীরা আসছিলেন। তখন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপির ওপর চড়াও হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আজ ঢাকা শহরের মোড়ে মোড়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পাহারা বসিয়েছে, তারাই পুলিশের সহায়তায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের ওপর হামলা চালিয়েছে।

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুর রহমান দুদু, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শাহাদত হোসেনসহ সারা দেশে এক হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট সাড়ে তিন হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।