রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ সাতক্ষীরায় গ্রেপ্তার

0
467

করোনা পরীক্ষায় প্রতারণার মামলায় বহুল আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বুধবার ভোরে সাড়ে পাঁচটায় সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় মাছের ঘেরে লুকিয়ে ছিলেন সাহেদ। তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদী তীর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল। এর আগেও একবার একই সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়েছিলো সাহেদ।

ঢাকায় আনার আগে ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পালিয়ে থাকার সময় তিনি ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করেন। পালিয়ে থাকতে চুলের কালো রং করে এবং গোঁফ কেটে তিনি চেহারা বদলের চেষ্টা করেন। ভারতে পালিয়ে গিয়ে সাহেদ আত্মগোপন করতে মাথা ন্যাড়া করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনও কিছুতেই শেষ রক্ষা হয়নি। আনুমানিক ৫.০০ থেকে ৫.৩০ এর দিকে বোরকা পরে নৌকায় ওঠার আগ মুহূর্তে ধরা পড়েন তিনি।

সাহেদকে গ্রেপ্তারে কর্নেল তোফায়েল আহমেদ নেতৃত্বে র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরোয়ার বিন কাসেমসহ র‌্যাব ৬-এর একটি দলের সহযোগিতায় এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তারের পর সকাল ৯টায় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর সংবাদ সম্মেলনে সাহেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তুলে ধরা হয় র‍্যাবের পক্ষ থেকে। সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার বলেন, বুধবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের ইছামতী খালের পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের ইছামতী খালের বিপরীত পাশেই অবস্থিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। ভোররাতেই ওই সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের কথা ছিল সাহেদের। কিন্তু আমাদের গোয়েন্দা দল সেখানে অবস্থান নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ্য হয়।

এদিকে, ঢাকায় আনার পর প্রতারক সাহেদকে নেওয়া হয়েছে র‍্যাব সদর দপ্তরে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরবে র‍্যাব। 

সরকারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে টাকার বিনিময়ে করোনাভাইরাস শনাক্তের নমুনা সংগ্রহ করা এবং ভুয়া সনদ দেওয়ার অভিযোগে ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়। একদিন পর গত ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়।

পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে মো. সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই মামলায় ৯ দিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হলেন মো. সাহেদ। এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজ, রিজেন্ট হাসপাতালের কর্মী তরিকুল ইসলাম, আবদুর রশিদ খান জুয়েল, মো. শিমুল পারভেজ, দীপায়ন বসু, আইটি কর্মকর্তা মাহবুব, সৈকত, পলাশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসান হাবীব (১), হেলথ টেকনিশিয়ান আহসান হাবীব (২), হেলথ টেকনোলজিস্ট হাতিম আলী, অভ্যর্থনাকারী কামরুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের প্রকল্প প্রশাসক মো. রাকিবুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের মানবসম্পদ কর্মকর্তা অমিত বণিক, রিজেন্ট গ্রুপের গাড়িচালক আবদুস সালাম ও নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রশিদ খান।

উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার বিকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।